জিলহজ্জ মাসের আমল ও আমাদের করণীয় বর্জনীয়: মাওলানা মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী

জুলাই ২৬ ২০২০, ১১:০০

Spread the love

জিলহজ্জ মাসের আমল ও আমাদের করণীয় বর্জনীয়: মাওলানা মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী

ইসলামের দৃষ্টিতে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন অত্যন্ত বারাকাতময়, গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত সময়। এ দশকটি ইবাদতের বসন্ত কাল। মুসলমানদের জন্য এতে রহমত, বারাকাত ও অনুকম্পার বিশাল ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে। এই দশ দিনকে সামনে পাওয়া বান্দার জন্য আল্লাহর তরফ হতে এক মহা অনুগ্রহ। মুত্তাকী ও নেক বান্দাগণই এই দিনগুলির যথার্থ কদর করে থাকেন। প্রতি মুসলিমের উচিত, এই সম্পদের কদর করা, এই সুবর্ণ সুযোগকে হেলায় হারিয়ে না দেওয়া এবং যত্নের সাথে বিভিন্ন ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে এই দিনগুলিকে অতিবাহিত করা।
ن ابن عباس مرفوعا ما من ایام العمل الصالح احب الی اللہ فیہن من ہذہ الایام یعنی عشر ذی الحجة قالوا ولا الجہاد فی سبیل اللہ قال ولا الجہاد فی سبیل اللہ الا رجلا خرج بنفسہ ومالہ ثم لم یرجع من ذلک بشٸء
এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের রেওয়ায়তে ইরশাদ করেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল আল্লাহর কাছে যতটা প্রিয় তা অন্য কোনো সময়ে নয়। সাহাবারা আরজ করেন, আল্লাহর পথের জেহাদ থেকেও প্রিয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়ে আর ফিরে না আসে তার কথা ভিন্ন।’ -সহিহ বোখারি।

উলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে তিনটি দশক:
“”””””””””””””””””””””””””””
উলামায়ে কেরাম এর দৃষ্টিতে তিনটি দশক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ক). রমযান মাসের শেষ দশক,
খ). জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশক,
গ). মুহররমের মাসের প্রথম দশক,

জিলহজ্জ মাসের ১ম দশকটি শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার, যেহেতু এর ৮ ৯ ১০ ম দিনসমূহে হজ্জের আহকাম পালিত হয়।
জিলহজ মাসের প্রথম দশকের প্রতিটি রাত লাইলাতুলকদর কদর সমতুল্য।
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে জিলহজ্জের প্রথম দশ রাতের কসম করে এর সম্মান ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।
والفجر ولیال عشر والشفع والوتر واللیل اذا یسر
سورة الفجر ١- ٣
ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ফজরের। দশ রাতের। জোড় ও বেজোড়ে রাতের, এবং শপথ রাতের যখন উহার অবসান ঘটে।’ -সূরা ফজর: ১-৩
মুফাসসিরদের মতে এখানে দশ রাত বলতে” জিলহজের প্রথম দশ রাত এবং বেজোড় দ্বারা ৯ম তারিখ আরাফার দিন এবং জোড় দ্বারা ১০ম তারিখ কুরবানির দিন ” উদ্দেশ্য। -তাফসিরে মারেফুল কুরআন, তাফসির ইবনে কাসির, তাফসির জালা লাইন,।
জিলহজের নবম তারিখটি আরাফার দিন। সেদিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজ্জের একটি ফরজ ও সবচেয়ে বড় রোকন।

আরাফা দিনের ধারনাতীত মর্যাদা ও অপরিসীম গুরুত্ব
””””””””””””””””””’”””””””””””””””””””
আরাফা দিনের সাথে কোন দিনের কোন তুলনাই চলে না। আরাফাত নিজেই নিজের দৃষ্টান্ত। তাই বিশ্ব নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেন, আরাফার দিনের মতো অন্য কোনো দিন আল্লাহ পাক এতো অধিক সংখ্যক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। সেদিন তিনি দুনিয়ার নিকটবর্তী হয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করে বলেন, দেখ, ‘আমার বান্দারা এলোমেলো চুল ও ধূলায় ধূসরিত শরীর নিয়ে আমার দরবারে আগমন করেছে। “লাব্বাইকা” বলে আকাশ বাতাস মুখরিত করে গগন বিদারি চিৎকার করছে। তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি এদের সবাইকে মাফ করে দিলাম।

এ মাসের প্রথম দশকে বিশ্ব মুসলিমদের জন্য আমল।
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
এ মাসে মুসলমানদের জন্য এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে যা সওয়াবের দিক হতে অতীব লাভজনক ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। উল্লেখযোগ্য কিছু আমল নিম্নে বর্নিত হলো;

১.) নখ, চুল, মোচ ইত্যাদি না কাটা:
“”””””””””””””””””””””””””””
জিলহজের চাঁদ দেখার পর হাত-পায়ের নখ না কাটা। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায়, সে যেন জিলহজের চাঁদ দেখার পর চুল ও নখ না কাটে।’ -ইবনে মাজাহ: ৩১৮৭

২.) অন্তত পক্ষে ৮ ও ৯ এ দু’দিন রোযা রাখা:
”””‘””””””””””””””””””””””””‘”‘”””””
জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশক হলো বৈচিত্র্যময় ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময় ও ইবাদত উদযাপনের মহামিলন কাল। সুতরাং সময় সুযোগ হলে শ্রেষ্ঠ সময়টি যথাযথ উদযাপনে ১লা জিলহজ্জ হতে ৯ ই জিলহজ্জ পর্যন্ত মোট ৯ দিন রোযা রেখে দেয়া সবচেয়ে উত্তম হবে।
অন্তত পক্ষে ৮ ও ৯ তারিখ এ দু দিন রোযা রাখার চেষ্টা করতে হবে।

এ সুযোগ হাতছাড়া করা আদৌ সমীচীন হবে না।
তাফসিরে মা আরেফুল কুরআনে বলা হয়েছে,
” জিলহজের প্রথম দশকের প্রত্যেক দিনের রোজা, সওয়াবের বিচারে এক এক বছরের রোজার সমান এবং প্রত্যেক রাতের ইবাদত শবেকদরের ইবাদতের সমতুল্য।”
বিশেষ করে রাসুল সঃ আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামকে উৎসাহিত করেতেন। এক হাদিসে মহানবী সঃ বলেন,
عن ابی قتادة ان رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم سٸل عن صوم یوم عرفة فقال یکفر السنة الماضیة والقابلة رواہ مسلم
وفی روایة احتسب علی اللہ ان یکفر السنة الماضیة والسنة القابلة
হযরত আবু কাতাদাহ রাঃ রেওয়ায়েতে বর্ননা করেন যে, আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আল্লাহর নবীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আরাফার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর বিনিময়ে আগের এক বছরের ও পরের এক বছরের তথা দু’ বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ -সহিহ মুসলিম।

৩.) অধিক পরিমাণে জিকির করা:
“””””””””””‘”””””””’”””””
ক). আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই এ ব্যাপারে মুসলমানদেরকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে বলেন,
لیشہدوا منافع لہم ویذکروا اسم اللہ فی ایام معلومات علی ما رزقہم من بہیمة الانعام سورة الحج ٢٨
‘তারা যেন নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ এবং তা এ জন্যই যে তিনিই গৃহ পালিত জাতীয় পশুর গোশত তাদের নিকট রিযিক হিসেবে সরবরাহ করেছেন। সূরা হজ: ২৮
উলামায়ে কেরাম এর মতে,
খ.) এখানে “নির্দিষ্ট দিন “বলতে জিলহজের প্রথম দশ দিনকেই বুঝিয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এ দিনগুলোর ইবাদত তাঁর কাছে অন্য সময়ের চেয়ে অ নে ক, অধিক প্রিয়। সুতরাং তোমরা এ দিনগুলোতে বেশি বেশি করে
١) তাহলিল ( لا الہ الا اللہ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ )
٢) তাহমিদ ( الحمد للہ আলহামদুলিল্লাহ )
: ٣) ও তাকবির ( ذ اللہ اکبر আল্লাহু আকবার) উচ্চারণ করো।’ -মুসনাদে আহমদ
গ) বর্ণিত আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বাজারে গিয়ে উচ্চস্বরে তাকবির বলতেন। তার তাকবির শোনে অন্য লোকেরা তাকবির বলতো।
জিলহজ্জের ৯-১৩ তারিখ পর্যন্ত তাকবির বলা ওয়াজিব
বিশেষ করে জিলহজের ৯ তারিখ ফজরের ফরজ হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর উচ্চ আওয়াজে একবার তাকবির পাঠ করা নারী পুরুষ সবার জন্য জন্য ওয়াজিব। পুরুষরা উচ্চস্বরে আর নারীরা নিম্নস্বরে উচ্চারণ করবে। একে শরিয়তের পরিভাষায়” তাকবিরে তাশরিক “বলা হয়।
اللہ اکبر اللہ اکبر لا الہ الا اللہ اللہ اکبر وللہ الحمد
তাকবিরটির বাংলা উচ্চারণ হলো, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’

৪.) বেশি বেশি নফল ইবাদত করা:
“”””””””””””””””””””””””””
হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে, ‘বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে সক্ষম হয়। এমনকি তখন আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি। ’ আমি তার চোখ, কান হাত,পা হয়ে যায়।সে তখন আমার কান দিয়ে শুনে, আমার চোখ দিয়ে দেখে। সে আমার নিকট আবেদন করলে আমি তখন অবশ্যই দিয়ে দেই। বুখারী।

৫.) গোনাহ পরিহার করা:
“”””‘””””””””””””””
এ দিবসগুলোতে ইবাদতের সওয়াব যেমন বেশি, তেমনি এ দিবস সমূহে পাপকাজে জড়িয়ে পড়াও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই এ মাসে যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকা এবং কৃত পাপের জন্য তওবা করা অপরিহার্য।

৬: তাওবার জন্য ইহা একটি মোক্ষম সময়
“””””””””””””””””””””””””””””””
একনিষ্ঠ মনে তাওবা করলে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তা কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন,
قل یا عبادی الذین اسرفوا علی انفسہم لا تقنطوا من رحمة اللہ انہ یغفر الذنوب جمیعا انہ ہو الغفور الرحیم
سورة الزمر رقم الایة ٥٣
ওহে নবী আপনি আমার পক্ষ থেকে ঘোষণা করুন, হে আমার গোলামেরা! তোমরা যারা নিজেদের উপর বেশি বাড়াবাড়ি করেছো,তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। তিনি তোমাদের জীবনের সকল গোনাহই মাফ করে দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
সুরা যুমার আয়াত নং ৫৩

৭.) বেশি বেশি দান খয়রাত ও সাদাকা করা:
“”””’””””””””””””””””””””””””””””
এ দিনগুলো মর্যাদা সম্পন্ন হওয়ায় এসব দিনে গরীব দুঃখী অসহায় মানুষের প্রতি সাদাকা করলে তার সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
الصدقة ترد البلاء (وتسد شر سبعین بابا )
মহানবী সঃ বলেন, সাদাকাহ মানুষের বিপদাপদকে দূরীভূত করে।
অন্য এক রেওয়ায়তে রয়েছে, একবারের সাদাকাহ মন্দের সত্তরটি দরজা বন্ধ করে দেয়।

৮.) এ সময়ে হজ্জের সরাসরি প্রোগ্রাম প্রত্যক্ষ করা:
“”””’”””””””””””””””””””””””””””””””””
মিডিয়ার বদৌলতে বর্তমান বিশ্বে মানুষের জন্য সব কিছুই সহজ হয়ে গেছে। জিলহজ্জ মাস হজ্জের মাস। হজ্জের সব অনুষ্ঠানই সরাসরি এখন সম্প্রচার করা হয়। হজ্জের সময় হজ্জের প্রোগ্রাম গুলো অবলোকন করা ইহাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। হাদিস শরীফে এসেছে
ینزل علی ھذا البیت کل ساعة ماٸة وعشرون رحمة ستون منہا للطاٸفین واربعون منہا للعاکفین حولہ وعشرون منہا للناظرین الیہ
আল্লাহর ঘর এ গৃহটি এতটাই বরকতপূর্ণ যে যারা সরাসরি এ ঘরের তাওয়াফ করবে তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রতি মুহূর্তে ৬০ টি রহমত নাযিল হতে থাকে। হজ্জের সময় হজ্জের জন্য যারা বিভিন্ন টাওয়ারে ও বাসা বাড়িতে অবস্থান করে থাকে, তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রতিটি মুহূর্তে ৪০ টি রহমত নাযিল হয় এবং যারা ঘরে বসে মহব্বতের নজরে কাবাঘরের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকে তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রতি মুহূর্তে ২০ টি করে রহমত নাযিল হতে থাকে। আল হাদিস।
সুতরাং পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে হোক না কেন কাবাঘরের দিকে মহব্বত নিয়ে তাকালেও প্রতি মুহূর্তে দৃষ্টিপাতকারী মাত্রই ২০ টি করে রহমত প্রাপ্ত হতে থাকবে।
ওগুলো হচ্ছে ঐতিহাসিক স্থান। যেথায় যেথায় কুরআন নাযিল হয়েছে। এ গুলোকে আরবিতে ” আরদুল কুরআন ” তথা “কুরআন অবতরণের স্থান ” বলা হয়ে থাকে।

৯.) আরাফার দিনে বেশি বেশি দোয়া নিবেদন:
“”””’”””””””””””””””””””””””””””””
হাদিস শরীফে এসেছে আরাফা দিবসে পেশকৃত সব দোয়াই আল্লাহ পাক কবুল করে থাকেন। তাই আল্লাহর নবী বলেন,
الدعاء دعاء عرفة وخیر الدعاء دعاء عرفة
মহানবী সঃ বলেন, আরাফাতের দোয়াই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট দোয়া।
মহানবী সঃ আরাফাত প্রান্তরে মজলুমের সকল গোনাহ মাফের জন্য দোয়া করলে তা ওখানেই কবুল করা হয়।তিনি তাঁর উম্মতের জালিমের গোনাহ মাফের আবেদন করলে তা না মনজুর হয়। আরাফাত প্রান্ত হতে মুজদালিফায় অবস্থান কালে হঠাৎ মহানবী সঃ হেঁসে উঠেন।সাহাবায়ে কেরাম হাঁসির কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জালিমের জন্য আরাফাতে আমি দোয়া করেছিলাম তা কবুল হতে দেখে শয়তান তার মাথার উপর বালু ঢেলে দিয়ে হাহুতাশ করছে। তাঁর অস্থিরতা দেখে আমি হাসতেছি।

১০.) আল্লাহর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে তাঁরই সন্তুষ্টি বিধানে মহান দরবারে কুরবানী পেশ:
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””
হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে মহীয়ান গরীয়ান আল্লাহ পাকের জন্য কুরবানী পেশ করা। আল্লাহ পাকের নিকট মানুষের উৎসর্গকৃত জন্তুর রক্ত মাংস কিছুই পৌঁছে না, তাদের তাকওয়াই তাঁর নিকট সঠিক সময় পৌঁছে যায়।
সুরা হজ্জ আয়াত নং ৩৭
لن ینال اللہ لحومہا ولا دماءھا ولکن ینالہ التقوی منکم
سورة الحج رقم الایة ٣٧

আমাদের সমাজে ঋণমুক্ত মানুষের অস্তিত্ব খুবই কম। কুরবানী একটি মহৎ ইবাদাত। ঋণের দোহাই দিয়ে কুরবানী হতে নিবৃত্ত ঠিক নহে। লাখ লাখ টাকা ঋণ করে ছেলে মেয়ের বিয়ে শাদি জায়গা জমি ক্রয় ঘর বাড়ি নির্মানসহ ব্যয়বহুল সব কাজই আমরা অবলীলায় সম্পন্ন করে থাকি। শুধু যাকাত ও কুরবানীর ক্ষেত্রে ঋণকে সামনে নিয়ে আসি। ইহা কখনো কাম্য নহে।
হাঁ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গের জন্য শরীয়তের পক্ষ হতে উহার অনুমোদন রয়েছে।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ঈদের দিন পশুর রক্ত প্রবাহিত করা অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অন্য কোনো আমল অধিক প্রিয় নয়। আর কোরবানির পশু তার শিং, চুল এবং পায়ের খুরসহ কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে এবং কুরবানির জন্তুর রক্ত মাটি স্পর্শ করার আগেই আল্লাহর দরবারে তা পৌঁছে যায়।’ -তিরমিজি
تلک عشرة کاملة

লেখক: মাওলানা মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী।
উপাধ্যক্ষ, দারুল উলুম কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদরাসা, চন্দনপুরা, চকবাজার, চট্টগ্রাম।

দৈনিক আজাদী অবলম্বনে;


Translate »