এনজিও কর্মীদের বীমার আওতায় আনুন, তাদের পিএফ, গ্রাউচ্যুটির নিশ্চয়তা দিন

এনজিও কর্মীরা নিবেদিত তাদের মূল্যায়ন জরুরী: জহিরুল ইসলাম

সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২০, ১৮:১৯

Spread the love

আজকের ঝলক এনজিও কথন :

এনজিও কর্মীরা ভালো কাজ করেন এটি এক বাক্যে স্বীকার করবেন সবাই । কিন্তু এই এনজিও কর্মীরা প্রতিনিয়ত প্রতিহিংসা ও অবহেলা শিকার । বলতে গেলে কোন এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে বিয়ে করতেও বেগ পেতে হয় । অথচ এই পেশাটি অত্যান্ত সৎ ও মানবিক । সেবার বিচার করলে এখানের কর্মীরা নিবেদিত তাই এখন দরকার হলো এই কর্মীদের শ্রম ও সেবার স্বীকৃতি প্রদান করা ।

কিছুটা হিসেব করে দেখতে দেখতে পাওয়া যায় যে যেসকল মানুষ এনজিও করার উদ্যোগ গ্রহন করেছেন হয়তো তাদের ভাগ্যের বেশ উন্নতি হয়েছে । অনেক এনজিও মালিক/নির্বাহী প্রধান বা শেয়ার হোল্ডারগণ বেশ বহাল তবিয়াতে আরামে দিন কাটাচ্ছেন কিন্তু এখানের কর্মীদের তেমন কোন উন্নতি হয়নি । অনেক কর্মী চাকুরী শেষে জীবনজীবিকায়নে হিমশিম খাচ্ছেন । অথচ রাস্ট্রের আর্থিক উন্নয়নে তাদের ভূমিকা ব্যপক । অনেক এনজিও আছেন যেখানে মানবাধিকারের কথা বলা হলেও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত । দুর্ভাগের বিষয় হলো এনজিও কর্মীদের পক্ষে কথা বলার জন্য তাদের কোন দল/প্লাটফর্ম নেই । সরকারী ভাবেও এনজিও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে খুব একটা ভাবা হয়নি কখনো ।

রেজাউল করিম চৌধুরী লিখেছিলেন; প্রতিদিন হাজারো এনজিও কর্মী সাইকেল ও মোটর সাইকেলে করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা, অর্থ, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন তাঁরা। তাঁরা এমন সব এলাকায়, এমন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেন, যেখানে বা যাদের সাথে এই কাজগুলো করতে অনেক কম মানুষকেই দেখা যায়।

দুর্ঘটনাক্রমে এমন এনজিওকর্মী মারা গেলে তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে খুব একটা বেশি কিছু করা যায় না, সীমিত সাধ্যের কারণে। কিন্তু আমাদের সরকার এই এনজিও কর্মীদের জন্য কিছু করবে না? সমাজের জন্য তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, সরকারের বীমা প্রতিষ্ঠানের আওতায় তাঁদের জন্য বীমার ব্যবস্থা করা উচিৎ, এনজিওগুলো সেই বীমার প্রিমিয়ামের অংশবিশেষের দায়িত্ব নিতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি এনজিওকর্মীরাও কি সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে না?

বলাবাহুল্য যে, এনজিও কর্মীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষার বিষয়ে দাতাসংস্থা / অংশীদারদের আগ্রহ-উদ্যোগও অপ্রতুল, কিন্তু যদি দাতা সংস্থাগুলোর কেউ মারা যায় সেক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিপূরণ হয় অনেক অনেক বেশি। সরকারের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, এপেক্স সংগঠনসমূহ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ – অবদান আশা করেন, আমরা আমাদের মতো করে অবদান রাখার/চাদা দেওয়ার চেষ্টা করি। তাই আমাদের দু:সময়েও আমরা তাদেরকে পাশে চাই। আমাদের কর্মীরা, বা আমরা দুর্ঘটনার স্বীকার হলে, আমরা অসুস্থ হয়ে গেলে, আমরা মারা গেলে আমাদের পরিবারের ভবিষ্যত কী? সরকারের কি এটা চিন্তা করার প্রয়োজন নেই?

তাই সময় এখনই এনজিও কর্মীদের বীমার আওতায় আনুন । তাদের পিএফ, গ্রাউচ্যুটির নিশ্চয়তা রাস্ট্রকে দিতে হবে । রাস্ট্র চিন্তা করবে কিভাবে সেটা এনজিদের কাছ থেকে নিশ্চিত করবে ।  এনজিও কর্মীদের জন্য চাই স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার । সময় এসেছে এসব নিয়ে চিন্তা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, এনজিও কর্মীরা নিবেদিত তাদের মূল্যায়ন খুবই জরুরী ।

লেখক : জহিরুল ইসলাম

আমাদের ফেসবুক পাতা


Translate »