এইচএসসি নিয়ে মন্ত্রীর কাছে ১৩ লাখ শিক্ষার্থীর পক্ষে নিবেদন

সেপ্টেম্বর ৩০ ২০২০, ২২:০৪

Spread the love

করো’নার মধ্যে এইচএসসি নয়’ আমাদের এই দাবি নিয়ে আসার কিংবা আ’ন্দোলন করার কোন উদ্দেশ্য ছিল না। যেহেতু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এপ্রিল মাস হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি, তাই আম’রা এখন আ’ন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি।

এইচএসসি পরীক্ষা আমাদের শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। করো’না পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। আম’রা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আজ ৬ মাস বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।

তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা ধরনের অযৌক্তিক ও বি’ভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে। যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। পরীক্ষার্থীরা কখনো শুনছি এইচএসসি পরীক্ষার ১৫ দিন আগের নোটিশেই পরীক্ষা হবে, কখনোবা শুনছি নভেম্বরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আবার কখনো শুনছি পরীক্ষাই হবে না। আবার কখনো শুনছি আগামী বছর পরীক্ষা হবে। আসলে কোন তথ্যটি সঠিক? আম’রা এপ্রিল হতেই এই ধরনের আলোচনা শুনে আসছি। যা আমাদের মধ্যে আকস্মিক উত্তে’জনা ও পরীক্ষাভীতি তৈরি করছে।

এইচএসসি পরীক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই ধরনের মানসিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই আম’রা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকি। ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের একটি বড় অংশ নেয়া হয় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল থেকে। ভর্তি পরীক্ষা আমাদের জীবনের বড় চ্যালে‌‌‌‌ঞ্জের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে জটিল ধাপ। এ ধরনের মানসিক অস্থিতিশীলতা এবং হতাশা নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ একত্রে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা এবং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্পূর্ণ ভিন্ন দু’টি পথ। তাই আম’রা শিক্ষার্থীরা কোন পরীক্ষার প্রস্তুতিই সঠিকভাবে নিতে সক্ষম হচ্ছি না। যা আমাদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

এসব কারণে ১৩ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জো’রালো অনুরোধ এই যে, অনুগ্রহপূর্বক যেকোনো একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসুন। আমাদের এই বি’ভ্রান্তি ও হতাশা থেকে মুক্ত করুন। সহযোগিতা করুন।

তাছাড়া আম’রা শিক্ষার্থীরা করো’না পরিস্থিতির মধ্যে কোনভাবেই বড় দু’টি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত নই। বরং আম’রা এখন আকস্মিক পরীক্ষার ভ’য়ে ভীত। কেন না দীর্ঘ ছয় মাস যাবত করো’না পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হ‌ইনি। তাছাড়া আমাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থীর কাছে ইন্টারনেট সুবিধা নেই। যার ফলস্বরূপ আম’রা অনেকেই এইচএসসি ও ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ক্লাস গুলো করতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক অনলাইন মডেল টেস্ট গুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। যার ফলস্বরূপ আম’রা এইচএসসি পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্ততি থেকে পিছিয়ে পড়েছি।

তাছাড়া এই দীর্ঘ ছয় মাসে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলো ভর্তি পরীক্ষার কোচিং ক্লাস গুলো অনলাইনের মাধ্যমে নিয়ে প্রায় শেষ করে ফেলেছে। তাই দেখা যাচ্ছে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা এবং ভর্তি পরীক্ষা কোন একটির প্রস্তুতিও চূড়ান্তভাবে নিতে পারেনি। অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার দুশ্চিন্তায় মানসিক অ’সুস্হতা ও হতাশায় ভুগছে।

তাই শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমা’র বিনীত অনুরোধ রইলো, আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অক্টোবরের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসুন। আমাদেরকে আপনাদের সিদ্ধান্ত জানান এবং আমাদের প্রকৃতপক্ষে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করুন। আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট করে সময় দিন। কেননা আপনাদের সিদ্ধান্তের অবহেলার কারণে ২০২০ এবং ২০২১ সালের দুটি শিক্ষাবর্ষ মেরুদ’ণ্ডহীন ভবিষ্যৎ প্রজন্মে পরিণত হতে পারে। যা আমাদের একান্তকা ম্য নয়।

তাই আশা করি শিক্ষামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞতার পরিচয় দিবেন। আমাদেরকে মানসিক চাপমুক্ত করবেন এবং প্রতিবারের মতো এবারও আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল করার পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবেন।

আম’রা ১৩ লক্ষ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে একটি সুনির্দিষ্ট এবং যৌক্তিক ও সহযোগিতামূলক সিদ্ধান্তের অ’পেক্ষা করবো। আশা করি শিক্ষামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি এবং ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি স্থিতিশীল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত দিয়ে বাধিত করবেন ।

লেখক: নাহলা ফারহীন, শিক্ষার্থী, ভিকারুন নিসা নুন কলেজ।


Translate »