লিবিয়ায় 26 জন বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা

মে ২৮ ২০২০, ১৮:৫০

Spread the love

লিবিয়ায় 30 জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি এবং চারজন আফ্রিকান অভিবাসী।

স্পেশাল করেসপেন্ডন্ট: আজকের ঝলক নিউজ।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, লিবিয়ার মানব পাচারকারী এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা ওই ৩০ অভিবাসীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। পাচারকারীদের হাতে আটক অভিবাসী এক আফ্রিকান পাচারকারীদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঐ পাচারকারীকেই মেরে ফেলে এবং সেই মৃত্যুর দায় এই অভিবাসীদের ওপর চাপিয়ে ঐ পাচারকারীর স্বজনরা একে একে আটকে পড়া 30 জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে।

এ সকল অভিবাসীরা লিবিয়ার বেনগাজী হয়ে রাজধানী ত্রিপলীর দিকে যাচ্ছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। তারা এখান থেকেই ইটালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু মাফিয়া চক্রের সদস্যরা তাঁদের আটকে রেখে মুক্তিপন দাবী করে এবং তাদেরকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে। পাচারকারীদের হাতে আটক অভিবাসী এক আফ্রিকান পাচারকারীদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঐ পাচারকারীকেই মেরে ফেলে। এর পরে ঐ পাচারকারী চক্রের স্বজনরা অন্য সব অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে যার মধ্যে থাকা 26 জনই বাংলাদেশী।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত লিবিয়ার সরকার আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি দিয়ে এসব কথা জানিয়েছে। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, লিবিয়ার মিজদা শহরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় গুলিতে আহত হন 11 জন। তাদের জিনতান হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, গুলিতে নিহত 30 অভিবাসীর মধ্যে 26 জনই বাংলাদেশি। অন্য চারজন আফ্রিকান।

গাদ্দাফি পরবর্তী গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত লিবিয়ার অর্থনীতি তেলনির্ভর। কাজের সন্ধানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেই তরুণেরা অবৈধ পথে দেশটিতে পাড়ি জমায়। একপর্যায়ে তাদের বেশিরভাগেরই লক্ষ্য থাকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ ভাবে ইউরোপের কোনো দেশে যাওয়া। এশিয়া আফ্রিকর বিভিন্ন দেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি পুরো রুটে মানব পাচারকারী বিশাল চক্র সক্রিয় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) লিবিয়ার মুখপাত্র সাফা মেশেলি বলেছেন এ
ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নৃশংস এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।


Translate »