সৌদি আরবও ইসরায়েলকে সঠিক সময়ে স্বীকৃতি দেবে মন্তব্য ট্রাম্পের

সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২০, ১৫:৪৭

Spread the love

সৌদি আরবও ইসরায়েলকে সঠিক সময়ে স্বীকৃতি দেবে মন্তব্য ট্রাম্পের

আজকের ঝলক নিউজ: আন্তর্জাতিক ডেস্ক;

বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর সৌদি আরবও দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন কথা বলেন বলে এএফপির খবরে বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দুই আরব দেশের পদক্ষেপ সৌদিও অনুসরণ করবে কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আমি সৌদি আরবের সঙ্গেও কথা বলেছি। সঠিক সময়ে এই সিদ্ধান্ত আসবে বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাত বা আট বা ৯টির বেশি দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ করবে।

গোটা মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাকে পাশ কাটিয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করল দুই আরব দেশ, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার দুপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে বহুল বিতর্কিত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ আল জায়ানি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে এদিন সংশ্লিষ্ট তিনটি দেশের প্রায় ৭০০ অতিথির জন্য এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ট্রাম্প।

এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে একই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করেন ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের বাদশাহ হুসেইন।

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রথম উপসাগরীয় আরব দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় গত মাসে। সেই পথে হেঁটেছে আরেক উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনও। ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর এই সম্পর্ক গড়ে তোলার মূল কারিগর যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার তিন বছর পর ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশশাসিত ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্ম হয়। পশ্চিমা বিশ্বের বানানো এই রাষ্ট্রকে কখনো মেনে নেয়নি আরবরা। ১৯৫৬, ১৯৬৭ ও সবশেষ ১৯৭৩ সালে আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ হয় ইসরায়েলের। প্রতিবারই আরবরা পরাজিত হয়। এরপর থেকেই ইহুদিদের কাছে জমি হারাতে বসে ফিলিস্তিনিরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুটি রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সংঘাত মেটানোর চেষ্টা করলেও তা এখনো সফলতার মুখ দেখেনি।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আরব দেশগুলো প্রধান তিনটি শর্ত দিয়েছিল। সেগুলো হলো, যুদ্ধের সময় আরব দেশগুলোর দখল করা জমি ছেড়ে দেওয়া, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও স্বীকৃতি এবং ফিলিস্তিনের দখল করা জমি হস্তান্তর। সেই শর্তের কোনোটা পূরণ না হওয়ার পরও আরব দেশগুলো ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এখন পর্যন্ত আমিরাত ও বাহরাইন ছাড়া আরও দুই আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তি হয়েছে। ১৯৭৯ সালে মিসরের সঙ্গে এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডানের সঙ্গে চুক্তি করে দেশটি।

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রথম উপসাগরীয় আরব দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় গত মাসে। সেই পথে হেঁটেছে আরেক উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনও। ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর এই সম্পর্ক গড়ে তোলার মূল কারিগর যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের ওই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। ওই চুক্তিতে সই করার কথা আমিরাত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর ইসরায়েলের দিক ঝুঁকে পড়াকে হুমকি মনে করে ফিলিস্তিন। গতকাল ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত শনিবার ফিলিস্তিনের ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ফিলিস্তিনের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন ফাতাহের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো বিরোধ ভুলে ‘ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের ক্ষেত্র’ তৈরিতে রাজি হয়।

ইসরায়েলের সঙ্গে বাহরাইন ও আমিরাতের চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে গতকাল গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা দিনব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেন। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত ও বাহরাইনের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়। ফিলিস্তিনিরা দিনটিকে ‘প্রত্যাখ্যান দিবস’ হিসেবে পালন করেন।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরিতে ৩ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া, ইসলামিক জিহাদের প্রধান জিয়াদ আল–নাখালাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


Translate »