করোনার ভ্যাক্সিন বিক্রির চুক্তি যখন স্বাক্ষর হয়

মৃত্যুর মিছিলে সুখবর

জুন ১৬ ২০২০, ১৯:৩০

Spread the love
ঝলক নিউজ
মৃত্যুর মিছিলে সুখবর:
করোনার ভ্যাক্সিন বিক্রির চুক্তি যখন স্বাক্ষর হয়, বলাই যায়, এটা প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে।  ১৩ই জুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বৃটিশ ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি Astra Zeneca ও ইউরোপীয়ান দেশগুলোর সাথে Oxford University কর্তৃক আবিষ্কৃত ভ্যাক্সিনের ৪০ কোটি ডোজ বিক্রির।
গবেষক Ms. Sarah Gilbert, Oxford University কিন্তু প্রথমেই ৮০% ভাগ গ্যারান্টি দিয়ে প্রথম ট্রায়াল শুরু করেছিলেন। Oxford University কর্তৃক আবিষ্কৃত ভ্যাক্সিন Astra Zeneca আগষ্টের প্রথমদিকেই ডাক্তার নার্স সহ জরুরী কাজে নিয়োজিতদের দেয়ার পরিকল্পনা করছে। আজ Oxford University বলেছে Christmas ‘র আগে সকল বৃটেনবাসীকে ভ্যাক্সিন দেয়া শেষ করবে।
ভ্যাক্সিনের তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল হল অনুমোদনের আগের ধাপ। এপর্যন্ত মোট ২টি কোম্পানী বৃটিশ Oxford University ও আমেরিকান Moderna যারা এধাপে পৌঁছিয়েছে।
Trump প্রশাসন ২.২ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে “সর্বোচ্চ গতিতে” (Warp Speed) আবিষ্কার করার জন্য। যদিও মোট ১৩৫ প্রতিষ্ঠান এখন করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে গবেষনা করছে। মার্চ মাসের একটি লেখায় বলেছিলাম, Donald Trump তার নির্বাচনের বিজয়ের জন্য হলেও নভেম্বরের আগে ঔষধ/ভ্যাক্সিন বের করবে। মনে হচ্ছে কাজ হবে। Donald Trump এই কোভিড-১৯ বিনাশের নাম দিয়েছে “Operation Warp Speed”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটম বোমা আবিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা’র সাথে এই ভ্যাক্সিনের তুলনা করেছে ট্রাম্প।
৫টি কোম্পানী হল  Moderna, Oxford University & Astra Zeneca, Johnson & Johnson, Merck এবং Pfizer. এদের মধ্যে প্রথম দুটি ৩য় ধাপের ট্রায়াল করছে। ৭টি প্রতিষ্ঠান ২য় ধাপে আছে। আমরা আশা করছি এই ৯টি’র একটিও যদি কাজে লাগে, বেঁচে যাবে লক্ষ লক্ষ প্রান, ফিরে আসবে আবার সেই সুদিন। হয়ত অচিরেই সুখবর আসবে বিশ্ববাসীর জন্য। বৃটিশ সরকারও মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড দিচ্ছে এই মহামুল্যবান গবেষনায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় অনুদান ভূমিকা রাখবে Oxford University & Astra Zeneca’র প্রথম হওয়ার দৌড়ে। যেহেতু ইংল্যান্ডে করোনার প্রভাব অনেকটা কমে এসেছে, শেষ ট্রায়াল ব্রাজিলেও চালানো হবে।
যেখানে গত ৪০ বছরে HIV এইডসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হয়নি, সেখানে করোনার ভ্যাক্সিন এত তাড়াতাড়ি সফল হবে, একটা দুচিন্তা থেকেই যায়। আশার কথা বৃটিশ-আমেরিকান কর্তৃপক্ষের কঠোর পর্যবেক্ষন ও অনুমোদন ব্যতিত কোন ভ্যাক্সিনই বাজারে আসবে না।
যেহেতু AstraZeneca কোন মুনাফা করবে না, তাই বিলগেটস ফাউন্ডেশন ও আমেরিকান সরকারের অর্থায়নে আরও ২০০ কোটি ডোজ তৈরীর চুক্তিও করা হয়েছে এশিয়ার অন্য কয়েকটি ঔষধ কোম্পানীর সাথে। যাতে অনুমোদনের সাথেই সাথেই তৃতীয় বিশ্বের কাছে সহজলভ্য হয়।
লক্ষ লক্ষ জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনীতিটাকেও যে বাঁচাবে এই “মোষ্ট ওয়ান্টেড” ভ্যাক্সিন, সেটা বলার আপেক্ষা রাখে না। তবে অর্থনীতির ক্ষতটা হয়ত কয়েক বছর থাকবে।
তবে মজার ব্যাপার হল জাপান, রাশিয়া, ব্রাজিলের সাথে সাথে চীনও অনুরোধ করছে AstraZeneca কে তাদের দেশকেও যেন ভ্যাক্সিন দেয়। তবে চায়নিজ একটি কোম্পানী তাদের শেষ ট্রায়াল ব্রাজিলে শুরু করবে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে আমরা আশা করব, তাদের “করোনা” ভাইরাসের মত ভ্যাক্সিনটাও যেন “এক নম্বর” হয়।
We Hate “China Virus but not Chinese People”
তপন, গবেষক।
ইংল্যান্ড।

আমাদের ফেসবুক পাতা

প্রয়োজনে কল করুন 01740665545

আমাদের ফেসবুক দলে যোগ দিন


Translate »