প্রতারক প্রেমিক মাহিবীসহ ৩ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

ঝালকাঠিতে আলোচিত কলেজ ছাত্রী মেঘার মৃত্যু

সেপ্টেম্বর ১৫ ২০২০, ১৮:৩৬

Spread the love

ঝালকাঠিতে আলোচিত কলেজ ছাত্রী মেঘার মৃত্যু ঘটনায়
প্রতারক প্রেমিক মাহিবীসহ ৩ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আজমীর হোসেন তালকুদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠির মেয়ে ইডেন কলেজ ছাত্রী আলোচিত সায়মা কালাম মেঘার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রতারক প্রেমিক মাহিবী হাসানসহ তিন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। একই সাথে আসামীদের অব্যহতির আবেদন না মঞ্জুর করেছে আদালত। ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার গত ৯ সেপ্টেম্বর তিন আসামী মাহিবী হাসান, তাঁর মা সেলিনা নাফিস ও বোন নওরিন বন্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য করেন।
বাদি পক্ষের আইনজীবী জানায়, সাক্ষীদের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি, ভিকটিমের স্যুইসাইড নোট, সুরতহাল, ভিসারা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এই অভিযোগ গঠন করা হয়। ঝালকাঠি শহরের পূর্ব চাদকাঠি এলাকার আবুল কালামের মেয়ে সায়মা কালাম মেঘার সাথে বিআইপি সড়কের মৃত নফিস উদ্দিনের ছেলে মাহিবী হাসানের প্রেম প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেঘাকে বিবাহের প্রস্তাব মাহিবী অস্বীকার করায় গত ২১ এপ্রিল ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টায় সায়মা কালাম মেঘা ঢাকার ধানমন্ডির একটি ভাড়া বাসায় মাহিবীর সাথে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যা করে।
এ ব্যাপারে মেঘার মা রুবিনা বেগম বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে গত ২০/০৯/২০১৯ তারিখ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামীরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত প্রধান আসামী মাহিবী হাসানকে কারাগারে পাঠিয়ে অপর দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন। দীর্ঘ ছয় মাস পর মাহিবী জামিন লাভ করে।
ইডেন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘার রেখে যাওয়া চিরকুটের লেখেন ‘আমি বাঁচতে চাইছিলাম। কিন্তু মাহিবি আর ওর মা আমাকে বাঁচতে দেয় নাই। আমি বারবার মাহিবির কাছে কুত্তার মতো যাই আর ও দিনের পর দিন আমারে পায়ে ঠেলে। ২২ লাইনের একটি সুইসাইড নোটে সে আরো লেখেন, ‘আব্বু-আম্মু আমারে মাফ কইরা দিও। আমার লাশের আশপাশেও যেন মাহিবি আসতে না পারে।’‘আল্লাহ মানুষকে মেয়ে দেয়। কিন্তু সবাইকে মেয়ে দেয়া উচিত নয়। যাদের অনেক টাকা-পয়সা দেয়, শুধু যেন তাদেরই মেয়ে দেয়। তাহলে আমার মতো গরিবের মাইয়া নিয়া ওরা খেলতে পারবে না। ‘
মায়ের উদ্দেশে মেঘা লেখেন, ‘আম্মু আমি জানি আমি ছাড়া তোমার আর কেউ নেই। কিন্তু আমি নিরুপায়। তুমি মুক্তা চাচির কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখো আমার পিঠ দেয়ালে ঠেইকা গেছে। তাই আজকে আমি মইরা গেলাম। আমার ভাইটারে মানুষ বানাইয়ো। যেন আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারে। আর আব্বুরে সামলাইও। আব্বুকে বুঝাইও, আমি নিরুপায় হইয়া মরছি।- মেঘা।’
ভিডিওতে মেঘার করুণ মৃত্যু দেখেও মন গলেনি মাহিবির। মৃত্যর পর মেঘার সহপাঠী আফরিন জাহান আনিকা ও মেঘার মা রুবিনা আজাদকে ফোন দিয়ে বিষয়টি মাহিবি নিজেই জানান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করার পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা-ঢাকা দেন মাহিবি ও তার পরিবার।


Translate »