ফিরলেন আরেক ‘মৃত’, আবারো মিথ্যা মামলা

অক্টোবর ০২ ২০২০, ১৬:০২

Spread the love

প্রে’মের বিরোধকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থা’নায় মিথ্যা অ’পহ’রণ ও গু’মের মা’মলায় প্রে’মিকাসহ তার পরিবারের ছয়জনকে জে’ল খাটিয়ে হয়’রানির অ’ভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর আত্মগো’পনে থাকা প্রে’মিক আ’দালতে স্বশরীরে হাজির হলে মিথ্যা মা’মলার বিষয়টি সামনে আসে।

একই সাথে এই মা’মলায় থা’না পু’লিশের বি’রুদ্ধে গু’ম খু’নের দায় স্বীকার করিয়ে জো’রপূর্বক এক নারীর মিথ্যা জবানব’ন্দি আদায়েরও অ’ভিযোগ তুলেছেন আ’সামিপক্ষের আইনজীবী। তবে মা’মলা’টির ত’দন্ত সংস্থা সিআইডি পু’লিশের বিশেষ পু’লিশ সুপার জানিয়েছেন, কারো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গু’মের পর হ’ত্যা করা হয়েছে মামুনকে এমন অ’ভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামুনের প্রে’মিকা তাসলিমাসহ তার পরিবারের ৬ সদস্য ৪ বছরের বিভিন্ন মেয়াদে জে’ল খাটার পর হঠাৎ আ’দালতে উপস্থিত খোদ মামুন। তাকে দেখে মিথ্যা মা’মলায় ফাঁ’সানোর ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাসলিমা’র পরিবার। আ’দালত প্রাঙ্গনেই শুরু আ’সামি ও বাদীপক্ষের তুমুল কথা কা’টাকাটি যা একপর্যায়ে রূপ নেয় হাতাহাতিতে।

আ’সামিপক্ষের দাবি, ২০১৪ সালে চাঁদপুরের মতলবের শাখারীপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছে’লে নবম শ্রেনীর ছাত্র মামুনের সাথে প্রে’মের স’ম্পর্ক গড়ে উঠে একই এলাকার রকমত আলীর মে’য়ে তাসলিমা খাতুনের সাথে। তবে দুই পরিবারের অ’ভিভাবকরা এই স’ম্পর্ক মেনে না নেয়ায় তাসলিমাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খালার বাড়িতে। সে বছর ১০ মে সকালে অ’জ্ঞাতনামা ব্যক্তির ফোন পাওয়ার পর মামুন নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে যায়। এরপর থেকেই মামুন নিখোঁজ। এমন অ’ভিযোগ এনে ঘটনার দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে মামুনের বাবা আবুল কালাম ছে’লেকে অ’পহ’রণ ও গু’মের অ’ভিযোগে ফতুল্লা থা’নায় তাসলিমাসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের বি’রুদ্ধে ৩৬৪ ধারায় একটি মা’মলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় তাসলিমা’র মামী মাকসুদার কাছ থেকে জো’রপূর্বক ১৬৪ ধারায় মিথ্যা জবানব’ন্দি রেকর্ড করে ফতুল্লা পু’লিশ। পরে চার্জশিট দিলে পু’লিশ ছয়জনকে গ্রে’ফতার করে রি’মান্ডে নেয়।

এ বিষয়ে তাসলিমা বলেন, মামুন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ’ভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ওর বাবা আবুল কালাম একটি মা’মলা করে। এতে আ’সামি করা হয় আমিসহ আমা’র বাবা রহমতউল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল ও সাগর এবং আমা’র মামা সাত্তারকে। আর এই মা’মলায় আমি ও আমা’র ভাই এক বছর করে জে’ল খাটি। বাকিরা সবাই এক মাস করে জে’ল খাটে। জে’লের মধ্যেও আমাদের ওপর অনেক নি’র্যাতন-নি’পীড়ন করা হয়। আমাকে গর্ভাবস্থাতেই জে’ল খাটতে হয়েছে। দফায় দফায় রি’মান্ডে নিয়ে জবানব’ন্দি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আম’রা জবানব’ন্দি দেইনি। কারণ আম’রা তো আর ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না। এরই মধ্যে মামুন (৩০ সেপ্টেম্বর) আ’দালতে হাজির হয়েছে।

মা’মলার নতুন মোড় নেয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। এদিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আ’দালতে মা’মলার দিন ধার্য্য থাকায় আ’দালতে হাজির হন আ’সামিরা। এসময় দীর্ঘ চার বছর পর মামুনও হাজির হয় আ’দালতে।মামুন বলেন, বাবা মায়ের উপর অ’ভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়ে এতদিন গাজীপুরে বসবাস করেছি।

ক্ষতিপূরণের দাবি জানান আ’সামি পক্ষের আইনজীবী। অ্যাডভাকেট এম’দাদ হোসেন বলেন, সিআইডি পু’লিশ সঠিক ত’দন্ত না করে আ’সামিদের বি’রুদ্ধে মিথ্যা চার্জশিট দিয়েছে। নিরপরাধ মানুষগুলোকে রি’মান্ডে নিয়ে নি’র্যাতন করা হয়েছে। তারা জে’ল খেটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি আ’দালতে প্রয়োজনে রিট করব তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য। একই সঙ্গে মিথ্যা বানোয়াট মা’মলা দায়ের করার অ’প’রাধে বাদীরও দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি দাবি করছি। আর মা’মলার ত’দন্ত সংস্থার বিষয়ে আ’দালত বলবেন।

নারায়ণগঞ্জ সিআইডি বিশেষ পু’লিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, পু’লিশের পাঠানো জবানব’ন্দির উপর ভিত্তি করেই সিআইডির ত’দন্ত কর্মক’র্তা চার্জশীট দেয়া হয়েছে।

এর আগে, গত আগস্ট মাসে সদর থা’নায় জিশা মনি নামে এক কি’শোরী অ’পহ’রণ মা’মলায় জো’রপূর্বক তিন আসামীর মিথ্যা জবানব’ন্দি রেকর্ড করানোর দুই সপ্তাহ পর ওই কি’শোরী জীবিত উ’দ্ধার হলে পু’লিশ বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় ত’দন্তের নির্দেশ দেন হাই’কোর্ট।

আমাদের ফেসবুক পাতা

প্রয়োজনে কল করুন 01740665545

আমাদের ফেসবুক দলে যোগ দিন


Translate »