শিল্প সম্পর্ক; মো: জহিরুল ইসলাম

জুলাই ২৫ ২০২১, ১৫:৩৯

Spread the love

আজকের ঝলক

শিল্প সম্পর্ক হলো শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিক, শ্রমিক ও সরকার পক্ষের পারস্পরিক সুসম্পর্ক সুসম্পর্ক বজায় রাখার শাস্ত্রীয় জ্ঞান। শিল্প সম্পর্ক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক উপাদানের একটি সমন্বিত ধারণা। পাশাপাশি শিল্প সম্পর্ক সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখার জন্য বহুমুখী বিষয়ের জ্ঞান ও তাত্বিক ধারণা থাকা দরকার। শিল্পে শান্তি বজায় রাখা ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য শিল্প সম্পর্ক বিশেষভাবে দরকার। মালিক ও শ্রমিক পক্ষ নিয়োগ শর্তাবলী ও কাজের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে শিল্পে কোন অসন্তোষ থাকে না। ফলে উৎপাদন অব্যাহত থাকে, মালিক তার আয় পায়, আর শ্রমিকেরা তাদের মজুরি পায়। এমন একটি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যই শিল্প সম্পর্ক কাজ করে। শিল্প সম্পর্ক সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইত্যাদি বহুশাস্ত্রীয় জ্ঞান থেকে আহরিত শাস্ত্র। শিল্পে শান্তি ও উৎপাদন বজায় রাখার জন্য শিল্প সম্পর্ক অপিরহার্য।

বাউবির এ্যসাইনমেন্টের নির্দেশনার আলোকে শিল্প সম্পর্ক । একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শিল্প সম্পর্ক যে কারণে এতোটা গুরুত্বপূর্ন । শিল্প সম্পর্কের সকল মডেল । একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসাবে আমার একটি মডেল সমর্থন। বিষয়ে নি¤েœ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে । সেখানে বর্ননা করা হয়েছে প্রতিটি প্রশ্নের চাহিদা মোতাবেক ।

 শিল্প সম্পর্ক কি? একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শিল্প সম্পর্ক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ?

শিল্প সম্পর্ক

শিল্প সম্পর্ক শুধু একটা সাংগঠনিক কাজ নিয়ন্ত্রণকারী বিষয় নয়, এটি বরং বৃহত্তর পরিসরে বিস্তৃত একটি বহুপাক্ষিক সম্পর্ক। এই পক্ষগুলোর মধ্যে যেমন মালিক ও শ্রমিক পক্ষ আছে, তেমনই তাদের সংগঠনও আছে। এছাড়া আছে সরকার। ফলে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সমন্বিত ধারণা। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বলা যায়, শিল্প সম্পর্ক হলো শ্রমিক-শ্রমিক, শ্রমিক-মালিক, মালিক-মালিক, শ্রমিক সংগঠন-মালিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন-শ্রমিক সংগঠন, মালিক সংগঠন-মালিক সংগঠন এর মধ্যস্থিত সম্পর্ক এবং এদের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ককে বোঝায়। এই শিল্প সম্পর্ক সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে উদ্ভুত হয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শন, নিয়ম-নীতি, বিধি-বিধান দ্বারা চালিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, শিল্প সম্পর্ক একটি বহু পাক্ষিক সম্পর্ক যা বহু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও মূল্যবোধ দ্বারা চালিত হয় এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়াবলী পক্ষগণের পারস্পরিক সন্তুষ্টি বজায় রেখে শিল্পে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা।

শিল্প হলো পণ্য ও সেবা উৎপাদনের মাধ্যম। দেশের সংবিধান, আইন ও বিধি মেনে শিল্প কাজ করতে হয়। শিল্প সম্পর্ক হচ্ছে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা হলো একটি সাংগঠনে কর্মরত মানুষদের ব্যবস্থাপনা করার দর্শন, নীতি, প্রক্রিয়া ও অনুশীলন সম্পর্কিত সমন্বিত সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে সাংগঠনিক যোগ্যতা ও সক্ষমতা বাড়ে এবং কর্মচারীদের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। এই মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে সন্তুষ্ট শ্রমশক্তি বজায় রাখা।
‘শিল্প সম্পর্ক’ (আইআর) শব্দটি দুটি শব্দ ‘শিল্প’ এবং ‘সম্পর্ক’ দ্বারা গঠিত। ‘এটা কেবল শিল্পের মধ্যে স্টেকহোল্ডারের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের মানে। ১৯৭৫ সালে হায়ম্যানের মতে, শিল্প সম্পর্কগুলি কাজ সম্পর্কের উপর নিযন্ত্রণের প্রক্রিযাগুলির অধ্যয়ন ছিল।

শিল্প সম্পর্ক বলতে শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের পারসম্পারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার শা ̄¿ীয় জ্ঞান। শিল্প সম্পর্ক প্রধানতঃ মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে। বর্তমান আরও অনেক প্রভাব বিস্তারকারী পক্ষ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ কারনে বর্তমানে সব পক্ষের মধ্যস্থীত পারস্পারিক সম্পর্কবে শিল্প সম্পর্ক বলে অভিহিত করা হয়।
আমরা বলতে পারি, শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের পারস্পারিক সু সম্পর্ক বজায় রাখার শা¯্রীয় জ্ঞান হলো শিল্প সম্পর্ক।

শিল্প সম্পর্কের গুরুত্ব/ একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শিল্প সম্পর্ক যে কারণে এতোটা গুরুত্বপূর্ন

শিল্প সম্পর্ক কোন প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন প্রবাহ বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। কোন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ সমুন্নত রাখার মাধ্যমে শিল্প সম্পর্ক সাংগঠনিক কাজে সকল পক্ষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। যা হোক, সার্বিক বিচারে শিল্প সম্পর্কের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো ঃ

১। শিল্প শান্তি ঃ শিল্প সম্পর্ক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ সমুন্নত রাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, ধর্মঘট, দ্বন্দ, বিরোধ, বিশৃঙ্খলা ও আইনী হস্তক্ষেপ করার সুযোগ বিলোপ করে শিল্প শান্তি নিশ্চিত করে। অব্যাহত উৎপাদনের জন্য শিল্প শান্তি অপরিহার্য।

২। উৎপাদন বৃদ্ধি ঃ শিল্প সম্পর্ক শ্রমিক অসন্তোষের কারণগুলো নিরসন করে ও পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। ফলে, প্রণোদিত শ্রমিক কর্মচারিরা সর্বোচ্চ কর্ম প্রচেষ্টা নিয়োজিত করে এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

বাউবি ওপেন স্কুল কর্তৃক প্রেরিত এ্যাসাইনমেন্ট এর লেখার নির্দেশনা অনুযায়ী বর্ণনা করা হলো

এছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে তা নি¤েœ সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা হলো-


। সন্তোষজনক শিল্প পরিবেশ ঃ শিল্প সম্পর্ক কোন শিল্পের সকল পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ সমুন্œত রাখে। ফলে, শিল্পে মানব সম্পর্ক সাবলীল ও সৌহার্দ্যমূলক হয়। সে কারণে সন্তোষজনক শিল্প পরিবেশ বজায় থাকে যা শ্রমিক কর্মচারিদের সাংগঠনিক কাজে স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।

৪। কর্মচারীদের কর্মসন্তুষ্টি বৃদ্ধি ঃ শিল্প সম্পর্ক সকল পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে ও আন্তঃপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় রাখে। ফলে, ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের পরিবর্তে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়।

৫। প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব ঃ শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানে উত্তম মানব সম্পর্ক নিশ্চিত করে এবং বহুপাক্ষিক সুসম্পর্ক ও শান্তিপূর্ণ শিল্প পরিবেশ বজায় রাখে। শিল্প গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা কায়েম করে। ফলে, সংগঠনব্যাপী সমন্বিত ও প্রণোদিত টিম ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠে। এ কারণে সাংগঠনিক সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনই প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।

৬। কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি ঃ মনোবল হলো কর্মীবাহিনীর সামষ্টিক চারিত্রিক ও নৈতিক দৃঢ়তা। কার্য সন্তুষ্টি না থাকলে কর্মী বাহিনীর মধ্যে এই মনোবল গড়ে ওঠে না। শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানে সন্তোষজনক কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি করে, যার ফলে কর্মীদের অঙ্গীকার বাড়ে ও সার্বিক মনোবল বৃদ্ধি পায়।

৭। শিল্পীয় গণতন্ত্র ঃ শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানে শিল্পীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তির মনুষ্য-মর্যাদা, মেধা ব্যবহারের সুযোগ, কর্ম স্বাধীনতা ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করাই হলো শিল্পীয় গণতন্ত্র। ফলশ্রæতিতে, প্রতিষ্ঠান লাভ করে কর্মোদ্যোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থ সামাজিক প্রবৃদ্ধি।

৮। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধি ঃ শিল্প সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানে শান্তি বজায় রাখে। কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে ও মনোবল চাঙ্গা রাখে। এ সবের ফলশ্রæতিতে দেশের জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ও জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।

শিল্প সম্পর্ক সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ইত্যাদি বহুশাস্ত্রীয় জ্ঞান থেকে আহরিত শাস্ত্র। শিল্পে শান্তি ও উৎপাদন বজায় রাখার জন্য শিল্প সম্পর্ক অপরিহার্য।

মোট কথায় যদি এর গুরুত্ব বুঝাতে হয় তাহলে বলা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শিল্প সম্পর্ক যে কারণে এতোটা গুরুত্বপূর্ন

– এটি প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মচারী ও নিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার একটি মসৃণ প্রবাহ নিশ্চিত করে।

– এটি শিল্প বিরোধ হ্রাস করে, যা সরাসরি উৎপাদনশীলতার উপর প্রভাব ফেলবে।

– একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সময় তারা শিল্পকর্মের মনোবল বৃদ্ধি করে।

– এটি কর্মচারীদের পারফরম্যান্স এবং নিয়োগকারীদের ভাল নেতৃত্বের উপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নকে উন্নীত করে।

– এটি উভয় পক্ষের (কর্মচারী এবং নিয়োগকারীদের) গৃহীত নিয়ম এবং পদ্ধতি অনুযাযী কাজ হিসাবে অন্যায্য আচরণকে নিরুৎসাহিত করে।

এমবিএ বাংলা মাধ্যম শুরু হয় ২০১৯ থেকে

https://www.youtube.com/watch?v=gJtk-2wGsCU&t=1s



আমাদের ফেসবুক পাতা




প্রয়োজনে কল করুন 01740665545

আমাদের ফেসবুক দলে যোগ দিন







Translate »