‘ধর্ষকদের’ পক্ষে দাঁড়াননি কেউ, সিলেটে প্রশংসায় ভাসছেন আইনজীবীরা

সেপ্টেম্বর ২৯ ২০২০, ০১:০৬

Spread the love

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আ’ট’কে রেখে নববধূ গণধর্ষ ণের মা’মলায় গ্রে’ফতারকৃত ছয়জনের মধ্যে তিন আ’সামিকে আজ সোমবার আ’দালতে নিয়ে আসার পর তাদের পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী। এতে সকল শ্রেণির মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন সিলেটের আইজীবিরা।

সোমবার দুপুরে দুইজন ও বিকেলে এক আ’সামিকে সিলেট মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আ’দালতে হাজির করে সাতদিনের রি’মান্ড আবেদন করে পু’লিশ। শুনানি শেষে আ’দালতের বিচারক মো. সাইফুর রহমান তাদের পাঁচদিন করে এই তিনজনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। আ’সামিরা হলেন ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও এমসি কলেজ শাখা মুক্তিযু’দ্ধ মঞ্চের সভাপতি রবিউল হাসান।

আ’দালতের এপিপি অ্যাডভোকেট খোকন কুমা’র দত্ত জানান, আ’দালতে জামিন শুনানিতে আ’সামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ নেননি।
এদিকে, ‘ধর্ষকদের’ পক্ষে সোমবার সিলেটের কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোতে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তারা। দুপুরের পর থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেটের আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানিয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন অনেকে।

এসব স্ট্যাটাসে আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ‘ধর্ষকদের’ দ্রুত এবং সর্বোচ্চ শা’স্তি দাবি করছেন সবাই।

আ’সামিদের পক্ষে আ’দালতে কেউ না দাঁড়ানোর বিষয়ে সিলেট জে’লা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ জানান, আম’রা আনুষ্ঠানিকভাবে না নিলেও প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি- এই মা’মলার কোনো বিবাদীর পক্ষে ল’ড়বো না। তবে বাদিপক্ষ যদি কোনো আইনি সহায়তা আমাদের কাছে চান তবে আম’রা মানবিকতার দায়ে তা দিতে প্রস্তুত।

অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ আরও বলেন, মা’মলার দীর্ঘসূত্রিতায় আ’সামিদের পক্ষেও আ’দালত একটা সময় আইনজীবী নির্ধারণ করে। এটিকে আইনি ভাষায় ‘স্ট্যাট ডিফেন্স’ বলে। তবে এ মা’মলার ক্ষেত্রে এমন পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। আর এ ক্ষেত্রে সব আইনজীবী যে আ’সামিদের পক্ষে ল’ড়বেন, এমন কথাও নয়। মোট’কথা, এই অ’ভিযু’ক্তদের পক্ষে সিলেটের কোনো আইনজীবীই ল’ড়তে রাজি নন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধ*র্ষ ণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জো’র করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধ*র্ষ ণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আ’ট’কে রাখে দুজন।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থা’নায় মা’মলা করেছেন। মা’মলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অ’জ্ঞাত আরও ৩ জনকে আ’সামি করা হয়েছে।

মা’মলার আ’সামিরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজে’লার উমেদনগরের রফিকুল ইস’লামের ছে’লে তারেকুল ইস’লাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছে’লে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছে’লে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজে’লার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইস’লাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত চার আ’সামিসহ ছয়জনকে গ্রে’ফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখনও পলাতক রয়েছেন মা’মলার এজাহারভুক্ত আ’সামি মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫) ও তারেকুল ইস’লাম তারেক (২৮)। তাদের গ্রে’ফতারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।


Translate »