আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকারদিবস ২০২০

সংকটকালে তথ্য পেলে, জনগণের মুক্তি মেলে

সেপ্টেম্বর ২১ ২০২০, ১৪:৩৭

Spread the love

সংকটকালে তথ্য পেলে, জনগণের মুক্তি মেলে
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকারদিবস, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

২৮ সেপ্টেম্বরআন্তর্জাতিক তথ্য অধিকারদিবস। অবাধ তথ্যপ্রবাহএবং তথ্যে সর্বজনীনপ্রবেশাধিকারনিশ্চিতকরণেরজন্য বিশ্বব্যাপীদিবসটিপালিত হয়।‘তথ্য অধিকার,সংকটেহাতিয়ার’ এ প্রতিপাদ্য নিয়েএবছরবিশ্বেরঅন্যান্য দেশেরমতোবাংলাদেশেওদিবসটিপালিতহবে। সারাপৃথিবীতেকরোনাভাইরাসেসংক্রমনেরকালে এই সত্য আরেকবারপ্রতিষ্ঠিতহলো যে, ঠিকসময়েঠিক তথ্য মানুষেরজীবনবাঁচাতেওসক্ষম।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালেইউনেস্কোরগৃহিতসিদ্ধান্তঅনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরপ্রথম তথ্য অধিকারদিবসপালনকরা হয়। বাংলাদেশে প্রতিবছরসরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এ দিবসপালিত হয়। এ বছরবাংলাদেশে দিবসটিপালনেরজন্য কোভিড-১৯ সংক্রমণেরকথামাথায় রেখেসারাদেশেসরকারি-বেসরকারি উদ্যোগেঅনলাইনেসভা, সেমিনারসহবিভিন্নকর্মসূচিরআয়োজনকরা হয়।

তথ্য অধিকারআইন ২০০৯
গণপ্রজাতন্ত্রীবাংলাদেশেরসংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে জনগণেরচিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতারনিশ্চয়তা দেওয়াহয়েছে। আন্তর্জাতিকমানবাধিকার ঘোষণার ১৯ অনুচ্ছেদেও একই কথাবলাহয়েছে, বাংলাদেশ যার স্বাক্ষরকারী দেশ। জনগণেরক্ষমতায়নেরলক্ষ্যে তথ্য জানারঅধিকারকেপ্রাধান্য দিয়েইপ্রণয়নকরাহয়েছে ‘তথ্য অধিকারআইন ২০০৯’।যারফলেজনগণ ও গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তিরঅধিকারসুপ্রতিষ্ঠিতহয়েছে।এই আইনপ্রণয়নবাংলাদেশেরজন্য একটিযুগান্তকারীঘটনা। এর পূর্বে অফিসিয়ালসিক্রেসিঅ্যাক্ট নামেএকটি গোপনীয়তারক্ষারআইন ও চর্চাছিলযাজনগনের তথ্য প্রাপ্তিরঅধিকারেরজন্য ছিলবাধাস্বরূপ।তথ্য অধিকারআইনেরঅনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, দেশেরপ্রচলিতঅন্য সব আইনে কর্তৃপক্ষজনগণেরওপরক্ষমতাপ্রয়োগকরে থাকে; কিন্তু এ আইনেজনগণ কর্তৃপক্ষেরওপরক্ষমতাআরোপকরে।

আইনেবলাহয়েছে ‘তথ্যেরঅবাধপ্রবাহএবংজনগণের তথ্য অধিকারনিশ্চিতকরণেরনিমিত্তবিধানকরিবারলক্ষ্যে প্রনীতআইন।’বাংলাদেশ একটিপ্রজাতন্ত্র, যার অর্থই হলোজনগণেরপ্রাধান্যআইনটিরমূলভিত্তি(সংবিধানের ৭ ও ৩৯ ধারা)। ক্ষমতায়নেরজন্য জনগণের তথ্যে অভিগম্যতানিশ্চিতকরাএকান্তআবশ্যক। এতে সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবংসরকারি ও বিদেশি অর্থায়নেপরিচালিত বেসরকারিসংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাবৃদ্ধিপাবে, দুর্নীতিহ্রাসপাবে ও সুশাসনপ্রতিষ্ঠিতহবে। প্রকৃতপক্ষেতথ্যেরঅধিকারছাড়াসংবিধানেবর্ণিতনাগরিকেরঅন্যতম মৌলিকঅধিকারহিসেবে স্বীকৃত চিন্তা, বিবেক, বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতাঅকল্পনীয়।

তথ্য অধিকার, তথ্যেরআদান-প্রদানেরঅবিচ্ছেদ্য অংশ। আইনেরশাসন, মৌলিকমানবাধিকার, ন্যায়বিচারপ্রতিষ্ঠাএবংসামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকঅধিকারনিশ্চিতকরা সম্ভব এই আইনপ্রয়োগেরমাধ্যমে। সব উন্নয়নকার্যক্রম, সামাজিক ও অর্থনৈতিকনিরাপত্তাবেষ্টনীর তথ্য জনগণকেজানাতেহবে।জনগণেরএসবঅধিকারের তথ্য প্রদানবাধ্যতামূলক। তথ্য আদান-প্রদানেরমাধ্যমে সমাজেরঅবহেলিত, পিছিয়েপড়া, সুবিধাবঞ্চিত, ঝুঁকিপূর্ণ, অরক্ষিত ও প্রান্তিকজনগণেরন্যায্য অধিকারআদায়নিশ্চিতকরেতাদেরপ্রকৃত উন্নয়নঘটানো সম্ভব।

তথ্য কমিশন, বাংলাদেশ
২০০৯ সালে তথ্য অধিকারআইনপ্রণয়নেরবছরইপ্রতিষ্ঠাকরা হয় বাংলাদেশ তথ্য কমিশন। জনগণের তথ্য অধিকারবাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারিসকলপ্রতিষ্ঠানকে তথ্য প্রদানেউৎসাহিতবা ক্ষেত্রবিশেষেবাধ্যকরারজন্যই তথ্য কমিশনগঠনকরেছে। জনগণের তথ্য নাপাওয়াসংক্রান্তঅভিযোগগ্রহনও এই কমিশনেরঅন্যতমকাজ। এছাড়াও তথ্য প্রদানেঅনীহাবাভুল তথ্য প্রদানেরজন্য শাস্তিপ্রদানকরতেপারে এই কমিশন। তথ্যকমিশনজনগণের তথ্যঅধিকারপ্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তথ্য কমিশন তথ্য অধিকারবাস্তবায়নেজনসচেতনতামূলকবিশেষকার্যক্রম, তথ্য প্রদানকারীদের দক্ষতাউন্নয়নেনিয়মিতঅনলাইন ও অফলাইনপ্রশিক্ষণদিয়েযাচ্ছে।

জনগণেরতথ্য অধিকারপ্রতিষ্ঠায়সরকারের পদক্ষেপসমূহ
আধুনিক প্রযুক্তিরসর্বোত্তমব্যবহারেরমাধ্যমে জনগণকে তথ্য অধিকারসম্পর্কে সচেতনকরতেএবং তথ্য সেবানিশ্চিতকরতে তথ্য কমিশনঅনলাইনপ্রশিক্ষণ ও অনলাইন ট্র্যাকিংসিস্টেম কার্যক্রম গ্রহণকরেছে। এর ফলে সব শ্রেনি-পেশারমানুষ এই আইনেরসুফল ভোগকরতেপারবেএবং তথ্য জানারমাধ্যমে রাষ্ট্রীয়কার্যক্রমে অংশগ্রহণকরতেপারবে।সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার ২৮৬টি ইউনিয়নডিজিটাল সেন্টারগড়ে তোলাহয়েছে। তথ্যেরঅবাধপ্রবাহকেআরওবিস্তৃত করতে ৪৫টি বেসরকারি টেলিভিশনচ্যানেলএবং ২৮টি এফএম বেতার কেন্দ্র এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিওসম্প্রচারেরঅনুমতি দেওয়াহয়েছে। সরকারনাগরিক সেবাপ্রদানেরলক্ষ্যে ৪৫ হাজারেরও বেশিঅফিসের তথ্য সংবলিতবাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নচালুকরেছে।

তথ্য-অধিকারপ্রতিষ্ঠায়সরকারেরপাশাপাশিএনজিওবেসরকারিসংস্থাসমূহস¤পুরকভ‚মিকাপালনকরছে
সরকারেরপাশাপাশিবাংলাদেশেরবিভিন্ন বেসরকারিউন্নয়নসংস্থাসর্বসাধারণের তথ্য অধিকারপ্রতিষ্ঠায়নিরলসভাবেকাজকরেযাচ্ছে। বিভিন্নসচেতনতামূলককর্মসূচিরমাধ্যমে জনগণকে তথ্য সেবাপ্রদানকরেআসছে। তথ্য অধিকারআইনপ্রতিষ্ঠায়তাদেও দীর্ঘদিনের অধিপরামর্শ ও সরকারকেসহযোগিতারকথাও অনস্বীকার্য।

বেসরকারিপ্রতিষ্ঠানবাএনজিওরতত্তাবধানেপ্রতিষ্ঠিতকমিউনিটি রেডিওদ্বারাসমাজেরপশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠির তথ্য অধিকারনিশ্চিতহয়েছে। সমাজেরঅবহেলিত, পিছিয়েপড়া, সুবিধাবঞ্চিত, ঝুঁকিপূর্ণ, অরক্ষিত ও প্রান্তিকজনগণেরন্যায্য অধিকারআদায়নিশ্চিতকরারজন্য তাদেরমধ্যে তথ্য সরবহার ও তথ্য অধিকারনিয়েসচেওতনতারজন্য নানাবিধকার্যক্রম পরিচালনাকরেআসছে। এর ফলে তথ্য অধিকারআইনটিসর্বজনীন, ধনী-দরিদ্র-নির্বিশেষে সর্বস্তরেরমানুষেরঅধিকারনিশ্চিতকরে, জনগণকে সব কাজেঅংশগ্রহণেরঅধিকার দেয়, উন্নয়নেরমূল স্রোতধারায়নিয়েআসেযাজনগণেরক্ষমতায়নসুসংহতকরেএবংএকটিআদর্শ গণতান্ত্রিকরাষ্ট্র গঠনেকার্যকরিভ‚মিকাপালনকরে।

বাংলাশেরতথ্য অধিকারপ্রতিষ্ঠায়প্রতিবন্ধকতাএবং সেগুলো দূরকরারমাধ্যমে তথ্য অধিকারপ্রতিষ্ঠায়সুপারিশমালা
তথ্য অধিকারআইন, তথ্য কমিশনএবংসরকারেরপাশাপাশিনানাইতিবাচক বেসরকারি উদ্যোগেরপরেওঅনেক ক্ষেত্রেইমানুষ তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এখনও বেশিকিছুবাধারয়ে গেছে। তথ্যেরবিশালচাহিদারতুলনায় তথ্য প্রাপ্তিরআবেদনএখনোঅনেক কম। নিরক্ষরতা, দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, অসচেতনতা,প্রশাসনিকপদ্ধতিসম্পর্কে অনভিজ্ঞতা এরঅন্যতমকারণ।পাশাপাশিঅনেক ক্ষেত্রেএখনও পূর্বেরমতো‘অফিসিয়ালসিক্রেসিঅ্যাক্ট’ধরনেরচর্চা ও মানসিকতারয়ে গেছে। এর ভিত্তিতেআমরানি¤œলিখিতসুপারিশবিবেচনারজন্য তুলেধরছি।

১. তথ্য কমিশনের নেতৃত্বে তৃণমূলপর্যন্তসকলপ্রতিষ্ঠানে (সরকারি, বেসরকারিসকলকার্যালয়ে) তথ্য নাপাওয়ারঅভিযোগ দাখিলেরসুব্যবস্থা নিশ্চিতকরা।
২. তথ্য কমিশন যে অভিযোগগ্রহনকরে থাকেএবংতারসমাধানেপ্রয়োজনীয়ব্যবস্থা নিয়ে থাকে, তাজনগণকেজানাতেআরো বেশিপ্রচারেরব্যবস্থা করা।
৩. তথ্য চাওয়ারআগেই স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশেরসংস্কৃতিকেউৎসাহিতকরা দরকার।
৪. বিভিন্নকার্যালয়েপ্রবেশমুখেইপ্রয়োজনের অতিরিক্ত নিরাপত্তাবলয় তথ্য আবেদনকারীকেনিরুৎসাহিতকরে থাকে। নিরাপত্তাবজায় রেখেও দরিদ্র ও তথ্যবঞ্চিতমানুষএসবকার্যালয়েএলেতাদেরঅভয়প্রদান ও তাদেরকথা শোনারব্যবস্থা নিশ্চিতকরতেহবে।
৫. অনলাইনেরপাশাপাশিঅফলাইনেও ফরম প্রাপ্তি ও ফরম পূরণ ও ফরম দাখিলেরপ্রক্রিয়াসহজতরকরা দরকার। অনলাইনেপিডিএফ ফরম ডাউনলোডব্যবস্থার পাশাপাশিঅনলাইনেই ফরম পূরণ ও দাখিলেরব্যবস্থা নিশ্চিতকরতেহবে।আবেদনযাতে দীর্ঘদিনপড়েনা থাকে সে ব্যাপারে উদ্যোগনিতেহবে।

প্রস্তুতকারী : বরকত উল্লাহ মারুফ, কোস্ট ট্রাস্ট ।

আমাদের ফেসবুক পাতা

প্রয়োজনে কল করুন 01740665545

আমাদের ফেসবুক দলে যোগ দিন


Translate »