ঘুর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হেনেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব বাংলাদেশেও

রাতভর তান্ডব চালিয়ে বিদায় নিলো আম্পান; প্রভাবে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি

মে ২১ ২০২০, ০৫:০৬

Spread the love

৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে : বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধির মাধ্যমে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোরে দুজন, পটুয়াখালীতে দুজন, ভোলায় দুজন, পিরোজপুরে একজন, সন্দ্বীপে একজন ও সাতক্ষীরায় একজন রয়েছেন।

যশোরের চৌগাছায় গাছ পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ।

পটুয়াখালিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে রাসেদ (৬) নামে এক শিশু মারা গেছে ও  কলাপাড়ায় মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে ধানখালীর ছৈলাবুনিয়া এলাকায় খালে নৌকা ডুবে নিখোজঁ শাহ আলম নামে এক ঘুর্ণিঝড় স্বেচ্ছাসেবীর মৃত্যু হয়েছে ।

ভোলায় গাছ পড়ে সিদ্দিক (৭৪) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চর কচ্ছপিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে ঝড়ের কবলে পড়ে ভোলায় মাঝিসহ ১১ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায় তখন রফিকুল ইসলাম (৩৫) এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে ।

সাতক্ষিরায় সংগীতা মোড়ে আম কুড়াতে গিয়ে ঝরের কবলে পড়ে একজন মারা গেছে।

সন্দ্বীপে আম্ফান আসার আগেই জোয়ারের পানিতে ডুবে মো. সালাউদ্দিন (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে দেয়াল চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আম্পনের প্রভাবে ভারতের আজ ৩টায় টাস্কফোর্সের সভা ডেকেছেন ভারত । বিপদ কাটলেও বৃষ্টি ও দমকা হওয়া বইছে দক্ষিণ বঙ্গে  আম্পানের থাবা কলকাতাতেও ।  আম্ফানের প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে আজ ৩টায় টাস্কফোর্সের সভা শেষে জানা যাবে সেখানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ।

খুলনার কয়রায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে যায় । কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর আংটিহারা এবং কয়রা সদরের হরিণখোলা বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের কারনে নষ্ট হয়েছে ফসল ও মাছ ।

ছবি : খুলনা, কয়রার বেরিবাঁধ ভেঙে গেলে তা মেরামতে  এগিয়ে আসেন স্থানীয় একদল সেচ্ছাসেবক ।

ছবি : ভোলার মনপুরা উপজেলায় বেরীবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে । চরফ্যাসনের ঢালচর, চরকুররিমুকরি, চরপাতিলা, চর মোতাহার পানিতে ডুবে গেছে । এছাও বেরীবাঁধ ঢুকে মেঘনা ও তেতুলিয়া পাড়ের ইউনিয়নগুলো প্লাবিত হয়েছে ।

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে । এছাড়া বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ পানিতে প্লাবিত হয়েছে ।

আম্পানের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষিরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠী, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষিপুর ও নোয়াখালীর শতশত গাছপালা, ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙে গেছে, পানি ঢুকে পুকুরের মাছ চলে গেছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । খুব শীর্ঘই সংশ্লিস্ট দফতর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশে কাজ করছেন বলে জানা গেছ ।

জানা গেছে প্রতিবারের ন্যায় এবারও আম্পান থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষা করতে বুক পেতে দিয়েছে সুন্দরবন । ইতিমধ্যে আম্পান ভারতে আঘাত হানলে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় । ঘুর্ণিঝড়টি মধ্যরাতে ভারতে আঘাত হানার পরে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গেছে । সর্বশেষ দেশের উপকূলীয় বন্দর সমূহকে  ১০ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া দফতর ।


Translate »