শিক্ষার্থীদের পেটানো সমাধান নয়

শিক্ষকদের কাজ কি পেটানো ?

Spread the love

শিক্ষকদের কাজ কি পেটানো ?

যারা মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেত উঠে যাওয়ায় বেয়াদব তৈরী হচ্ছে। তাদের বোধদয় প্রয়োজন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেত উঠে যাওয়ার অন্যতম কারণ কিছু পাগলা টাইপের মাষ্টারদের বিবেকহীন আঘাত/অত্যাচার/অপরাধ। ধরুন আপনার সন্তান স্কুলের পড়া পাড়েনি অথবা দুষ্টমি করেছে সেজন্য সন্তানকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে, সমস্থ শরীরে দাগ, অথবা এমন স্থানে আঘাত করেছে যাতে তার অঙ্গ হানি হয়েছে। আপনার কেমন লাগবে ?।
হাইকোর্টের নির্দেশনার আগে প্রতিবছরই শিক্ষকের আঘাতে শ্রেনিকক্ষে অথবা আঘাতের ফলে শিশুর, অঙ্গহানি, মৃত্যু হয়েছে, সেটি কি মঙ্গলজনক ছিলো ? অথবা অঙ্গহানী তা কি কাম্য ?
কয়েকটি উদাহরণ :
১. শিক্ষকের লাঠির আঘাতে ছাত্রের চোখ নষ্ট
যশোর প্রতিনিধি | ০৪ মার্চ, ২০২২। দৈনিক শিক্ষা ডট কম।
২. মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বেতের আঘাতে শিক্ষার্থীর চোখ নষ্টের আশংকা
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:০৪ দৈনিক ইত্তেফাক।
৩. শিক্ষকের বেত্রাঘাতে শিক্ষার্থী রক্তাক্ত, ছাত্রদের বিক্ষোভ, অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার, আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২৩ মে, ২০২২ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
৪. ছাত্রকে পিটিয়ে আহত, শিক্ষক গ্রেফতার। দৈনিক শিক্ষাডটকম, মাদারীপুর | ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
৫. প্রধান শিক্ষকের বেতের আঘাতে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু ।
আমার ফেসবুক লিষ্টে অনেক মেধাবী, সফল শিক্ষার্থী আছেন তারা বলেন তো বুকে হাত দিয়ে ক দিন আপনারা পিটান খেয়েছেন? আমার জানামতে কখনো না অথবা হাতে দুই একবার। যারা ভালো মানের ছাত্র তাদের স্যারগণ পিটান না। স্যারদের পিটানের জন্য অনেক শিক্ষার্থী স্কুল পালিয়ে ঢাকায় বস্তিতে আশ্রয় নিয়ে অশিক্ষিত ছিলেন, আবার কিছু শিক্ষকের শাসন ছিলো মানুষ হওয়ার জন্য সেটা কাম্য। আমি মনেকরি শাসন মানে শুয়ারের মতো পিটানো নয়, গরুর মতো পিটানো নয় অথবা অপমানজনক কথা/গালি নয়। প্রতিটি স্কুলে আগে একজন পাগলা শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলো, তাকে রাখাই হতো পিটানোর জন্য, তিনি শুধু পিটাতেন। এখনো কিছু বিদ্যালয় সেই টাইপের হাইপার শিক্ষক আছে যারা পরিবারের অশান্তি স্কুলের শিক্ষার্থীর উপর ঝাড়তে পারেনা বিধায় পিটানোর প্রসঙ্গ তোলে।
হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক দু-একজন স্কুলের শিক্ষকরা শিশুদের পশুর মতো মারেন যা কখনো কাম্য নয়। মাঝে মাঝে অঘটন ঘটে যেটি পত্রিকায় আসে, অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবক ভয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননা, কেউ ভাবেন মার্ক কমিয়ে দেবে, আবার অনেক অভিভাবক এখনো বিশ্বাস করেন পিটানো ছাড়া সন্তান মানুষ করা সম্ভব না।
একটু হলেই শিশুদের দোষ দেই, শিশুদের বেয়াদব বলি, কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেদেখি ! আমরা ছোট বেলায় কতটা ভদ্র ছিলাম ? যে শিক্ষক পিটান, তিনি কি আদৌ ভদ্র এখনো ?।
আমি বিশ্বাস করি পিটানো কখনো সমাধান নয় বরং আদর ভালোবাসাই হতে পারে শিশুর মেধা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। চারপাশে তাকিয়ে দেখুন যারা সফল হয়েছে তারা কিন্তু পিটানোর জন্য সফল হয়নি পড়াশুনা করে হয়েছে, আবার অনেকেই ছোটবেলায় স্কুলের ভয়ে পালিয়েছে। বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান একটি স্বাক্ষাৎকারে বলেছেন ‘’ বাংলাদেশে থাকতে আমার মেয় স্কুলে যাওয়ার কথা শুনলেই প্রতিদিন কাঁদতো, আর আমেরিকাতে স্কুল বন্ধ দিলে সে কাঁদে স্কুলে যাওয়ার জন্য’’। তাই আসুন মানুষ করতে হলে শিশুদের পিটাতে হবে !সেই ধারনা থেকে বের হয়ে আসি। আমার কথাগুলো হৃদয় থেকে মানতে যাদের কষ্ট হবে, তাদের কাছে আমি দুঃখিত।
শিক্ষকদের শারীরিক শাস্তি বিলুপ্তির বিষয় নির্দেশনা।
মো: জহিরুল ইসলাম
উন্নয়ন কর্মী
https://www.youtube.com/watch?v=XQTGCGvgpbw



আমাদের ফেসবুক পাতা




প্রয়োজনে কল করুন 01740665545

আমাদের ফেসবুক দলে যোগ দিন







Translate »