রাজনৈতিক আচরণ পরিবর্তনে

আরো ১৫ থেকে ২০ বছর লাগবে

জানুয়ারি ২০ ২০২৬, ১৫:৫৪

Spread the love

‘‘রাজনৈতিক আচরণ পরিবর্তনে আরো ১৫-২০ বছর লাগবে’’

মোঃ জহিরুল ইসলাম,

আয়কর আইনজীবী, সংগীত পরিচালক, বাংলাদেশ বেতার ও লেখক

 

আমাদের দেশের গ্রামের মানুষ এখনো দরিদ্র যাদের মধ্যে কেউ কেউ হতদরিদ্র, যাদের কাছে জ্ঞান ও সামগ্রিক উন্নয়নের চেয়ে, ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সুবিধা বেশি প্রয়োজন। এখনো এই শ্রেনী পেশার মানষের ভোটেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে।

অনেকেই মনে করে বিশ্ববিদ্যায়লগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। কিন্তু সেটা পুরোপুরি ঠিক না। কারণ বিষয়টি একটু ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে শান্তি, জ্ঞান ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ জরুরী। সেই বিবেচনা করে তারা ব্যক্তিকে ভোট দেয়, কিন্তু আসন চিন্তা করলে এই রকম সচেতন নাগরিকের সংখ্যা কম। এখনো গ্রাম/ওয়ার্ড এর সাধারণ মানুষ তাদের সামাজিক নিরাপত্তার ভাতার বিষয়টি বিবেচনা করেন, কোন স্থানীয় নেতার কাছে তার কার্ডের নিরাপত্তা আছে বা সেই সুবিধা দিতে পারবেন সেটি বিবেচনা করে পক্ষভূক্ত হন। এরপরে একটি শ্রেণি আছেন যারা ধর্মীও বিষয়কে প্রধান্যদেন আবার কারো কাছে মার্কা খুবই বেশি জনপ্রিয়, সেই মার্কায় যেই প্রার্থী হউক না কেনো তাকে ভোট দেবেন।

এছাড়া এখনো গ্রামের মানুষ সঠিক তথ্য পায়না এবং খোজ রাখেন বিধায় তারা গুজবে বিশ্বাস করে, কিছুটা আবেগ-অনুভূতিতে বিশ্বাস করে ভোট প্রদান করেন। আবার অনেক সময় বংশপরিক্রমায় নেতার ছেলে মেয়ে নেতা হবেন এরকমই চিন্তা ধারা করেন। আর খুবই কম সংখ্যক আছেন যারা তাদের ভোট টাকায় বিক্রি করেন। আর একটি শ্রেনি আছেন যারা তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মাসেল পাওয়ার দেখে ভোট প্রদান করেন। এজন্য দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্য, দক্ষ ব্যক্তিরা নির্বাচনে হেরে যায়।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিাবচক মূল্যবোধ সম্পন্ন নেতাদের অভাব আছে, অনেক রাজনৈতিক নেতাদের আয়ের পথ রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদা, ঠিকাদারী কাজ অথবা ঘুষ লেনদেন। অনেকের নিজস্ব কোনো পেশা নেই, অর্থাৎ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করার পরে তার নিজের কর্ম-জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। একারণে তারা নিজেদের এলাকার মানুষদের ব্যবহার করে,নিজেদের স্বার্থে।

তাই মানুষ এখনো ভোটের আগে চিন্তা করেন কে এলাকায় কাজ আনতে পারবে, কে ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতার কার্ডটি নিয়ন্ত্রণ করবেন। দেই দলেই হাটা শুরু করেন। যদি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে যার সংখ্যা খুবই কম।

ধীরে ধীরে গ্রাম ও শহরের একটি তরুন শ্রেণি বড় হচ্ছে, যাদের কাছে অবাদ তথ্য আছে এবং যারা জ্ঞান চর্চা ও দক্ষতার রাজনীতি শিখছেন। যারা বিশ্বাস করেন দেশে যে-কেউ যেকোনো পদে যাওয়ার অধিকার রাখেন তবে সেই শ্রণির ভোটে প্রভাব রাখারমত সংখ্যা নয়। তাই এই অবস্থার উত্তোরণ হতে কমপক্ষে আরো ১৫-২০ বছর সময় লাগবে।

হয়ত ১৫-২০ বছর পরে সকল নেতাদের একই মঞ্চে বক্তব্য দিয়ে যোগ্যতার প্রমান নিতে হবে। নাগরিকরা সরাসরি প্রশ্নবানে জর্জরিত করে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করবেন। ভোটে যোগ্য ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হবেন, যেখানে দলের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তির মযাদা বেশি হবে। নগরিকরা তাদের আবেগ, স্বার্থ, দুর্বলতা চিন্তা না করে দেশের কথা চিন্তা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

জাতীয় পার্টি এ দেশের রাজনীতিতে ভেসে আসেনি

https://www.youtube.com/watch?v=-UcvbIfm1e4&list=RD-UcvbIfm1e4&start_radio=1

 

 



আমাদের ফেসবুক পাতা




প্রয়োজনে কল করুন 01740665545

আমাদের ফেসবুক দলে যোগ দিন







Translate »