আজকের ঝলক নিউজ

উপকূলীয় মৎস্য খাতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি প্রয়োজন : কোস্টের গবেষণা

Spread the love

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

উপকূলীয় মৎস্য খাতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি প্রয়োজন : কোস্টের গবেষণা
আর্থ-সামাজিকভাবেবঞ্চিত জেলেপরিবারেরনারীবৃন্দ

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর, ২০২০। উপকূলীয় জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা জানতে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা করেছে বেসরকারী সেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট গবেষণার উল্লেখযোগ্য বিষয়বস্তু ও সুপারিশমালা গনমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ রিপোটার্স ইউনিটিতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির আয়োজন করা হয়।সংস্থার উপ-নির্বাহী পরিচালক সনত কুমার ভৌমিকের সঞ্চালনায় গবেষণার প্রতিপাদ্য বিষয় ও সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন সহকারী পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম ।
ভোলা, কক্সবাজার ও বাগেরহাট জেলায় এই গবেষণার জন্য জরিপ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই তিন জেলার ৪টি উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সরাসরি মোট ১২০০ জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই ইউনিয়নগুলোর মোট পরিবারের ৪০% জেলে পরিবার, মোট পরিবার ২০০৯৯ এবং জেলে পরিবার ৭৯৯৪ (৩৯.৭৮%)। অন্যদিকে ভোলা ৭০% পরিবারই জেলে মৎস্য পরিবার এবং কক্সবাজারে এটি ৬৬.৯৯%। প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে অংশীজনদের সঙ্গে একটি কর্মশালার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।
গবেষক মুজিবুল হক মুনীর বলেন ‘‘গবেষণায় আমরা পেয়েছি যে, অন্তত নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে জেলে পরিবারের নারী সদস্যরা সাংবিধানিক যথাযথ অধিকার থেকে অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত। আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮ (১) আশ্বাস দেয় যে, রাষ্ট্র কেবলমাত্র ধর্ম, বর্ণ, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনও নাগরিকের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না, ২৮ (২) অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্র এবং জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলে’’।
আমাদের শ্রম নীতিমালায় ২০১২ নারী ও পুরুষের সমান মজুরি এবং অধিকার সম্পর্কে বললেও, আমরা দেখেছি নারী শ্রমিকদের সবাই পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় কম মজুরি পাচ্ছেন। মৎস্য শ্রমিকদের ২১% নারী আবার মনে করেন পুরুষের তুলনায় নারীদের কম মুজুরি পাওয়াই স্বাভাবিক, ৩৯% নারী আবার নারীদের শ্রমমূল্য পুরুণদেতর তুলনায় কম হওয়াই উচিৎ বলে মনে করেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে দেশে নারীর অবস্থানের উন্নতি হলেও, জেলে পরিবারে নারীর ক্ষমতায়নের অবস্থা এখনো যথেষ্ট সঙ্গীন। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরিবারের সম্পদ কেনাকাটায় ৩১% নারীরই কোনও মতামত গ্রহণ করা হয় না, পরিবারের সাধারণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৫৮% নারী সদস্যরেই কোনও মতামত নেওয়া হয় না। অন্যদিকে মাত্র ২% নারী সদস্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কোনও বিশেষ প্রযোজনে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং সমাজের কোন সালিশে বা অন্য কোনও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ৮২% নারীই কোনওদিন কোনভাবে অংশ গ্রহণ করেননি। আমরা আরও দেখেছি, জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের বেশিরভাগই কোনও না কোনও সহিংসতার শিকার এবং পুরুষ সদস্য মাছ ধরতে বাড়ির বাইরে থাকলে তাদের প্রায় সবাই আতংকে থাকেন। গবেষণার প্রাপ্ত সামগ্রিক চিত্রটি আগামী ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। প্রাপ্ত গবেষণার আলোকে আমরা মৎস্য খাতে জেলে পরিবারের নারী সদস্যদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি ও তাদের সমস্যা সমাধানে  সুপারিশমালা এই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে ।
-মৎস্য খাতে নারীর অবদান চিহ্নিত করতে বিশেষ নীতিমালা ও উদ্যোগ প্রয়োজন
– জেলে পরিবারের নারী সদস্যদেরকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে, তাঁদের আর্থিক স্বাবলম্বন ক্ষমতায়নের পথ প্রসারিত করবে
– মৎস্যখাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে নারী বান্ধব নীতিমালা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে
– মৎস্যখাত সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ও আয়োজন থাকতে হবে-মৎস্যশ্রমিকদের জন্য শ্রম নীতিমালা – বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রয়োজন, মৎস্য খাতের নারী শ্রমিকদের জন্য নীতিমালা বাস্তবায়ন শক্তিশালী করতে হবে ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির বিষয় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়ন করতে হলে যৌথ উদ্যোগ গ্রহন প্রয়োজন ।বাংলাদেশ কৃষক ফেডারশনের সভাপতি এ এস এম বদরুল আলম মজুমদা ট্রেড ইউনিয়নের নেত্রী সালেহা ইসলাম শান্তনা গবেষণার সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকারী ও বেসরকারী দফতরের প্রতি আহবান জানান তারা বলেন সময় এসেছে জেলে উপকূলীয় মৎস্য খাতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার ।

Exit mobile version