বিজ্ঞাপনের বকেয়া টাকা চাওয়ায় আমাকে এক ঘন্টা আটকে রেখেছিলেন সাহেদ

জুলাই ১০ ২০২০, ২২:১০

Spread the love

বিজ্ঞাপনের বকেয়া টাকা চাওয়ায় আমাকে এক ঘন্টা আটকে রেখেছিলেন সাহেদ।

আজকের ঝলক নিউজ:

ঢাকার উত্তরা ও মিরপুরে অবস্থিত লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি, ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান সহ করোনা রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে করোনা মহামারীতে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অভিযোগ র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিসেট্রট সরওয়ার আলমের তদন্তে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়া প্রতারক এবং নিজেকে কখনো কখনো সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর দাবীকারী এবং আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন টকশোতে নীতিমূলক কথা বলে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৌশলে সখ্যতা গড়ে তুলে এবং তাদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজের আখের গুছিয়ে আলোচনায় আশা সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদ ছদ্মনামে এর আগেও দীর্ঘদিন অনেক মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছেন।

এমনই একটি ঘটনা একজন ভুক্তভোগী সাংবাদিক র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিসেট্রট সরওয়ার আলম কর্তৃক রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়ার পর নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্টে শেয়ার করেছেন। যিনি দেশের প্রথম অনলাইন ভিডিও পোর্টাল Change TV.press এর প্রধান বার্তা সম্পাদক ও এশিয়ান টিভির টকশো উপস্থাপক এবং My Tv সহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিল্পী ও সাড়া জাগানো অনেক বইয়ের লেখক। নাম আমিরুল মোমেনীন মানিক।

✍✍✍আজকের ঝলক নিউজের পাঠকদের সামনে সেই ভুক্তভোগী সাংবাদিকের লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

২০০৭ সালের কথা, তখন ওয়ান ইলেভেনের সময়। আমি বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার। এখানে জানিয়ে রাখা ভালো, সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আমি বিজ্ঞাপন ও তথ্যচিত্র নির্মাণ করি।

গত ১৫ বছরে আমি প্রায় ১০০টি কর্পোরেট তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছি।
এই কাজটি না করলে ঢাকা শহরে আমার টিকে থাকা অনেক কষ্টকর হতো।

যাই হোক, সেই সময় একজন গণমাধ্যমকর্মী মারফত জানতে পারি, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন নির্মাণের লোক খুঁজছে। তথ্য পেয়ে আমরা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করি। ৯০ হাজার টাকার চুক্তিতে কাজটা আমাদেরকে দেয় তারা। ১০ হাজার টাকা অগ্রীম পেলাম। তখন নতুন কাজ করছি, এটাকেই সোনায় সোহাগা মনে করলাম। নির্দিষ্ট সময়ে আমরা বিজ্ঞাপনচিত্র বুঝিয়ে দিলে তারা সন্তুষ্ট হলো। বিডিএস এর কর্তারা জানালেন, পরে এসে বকেয়া বিল নিয়ে যাবেন।

এরপর বারবার ধর্না দিতে লাগলাম টাকার জন্য। কিন্তু দেই-দিচ্ছি বলে ৩ মাস চলে গেল। ৬ মাস পেরিয়ে গেলে আমি নিজেই হাজির হলাম ধানমন্ডির বিজিবি সদরদপ্তরের উল্টোদিকে বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে।

তারা আমাকে বললো, এখন টাকা পাবেন না। স্যার, পরে আসতে বলেছেন। আমি বললাম, কোন স্যার? উত্তর এলো, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমি বললাম, দেখা করবো তার সঙ্গে, টাকা না নিয়ে আজ যাবোনা।

ভেতর থেকে আমার সব কথা শুনছিলেন এমডি সাহেব
আমার জোরালো কণ্ঠ শুনে, চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এলেন,
-এই মিয়া, বলছেনা টাকা দেওয়া হবেনা, জোর খাটাচ্ছেন কেন, কিসের টাকা পান আপনি?
আমি ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে বললাম, টাকা না নিয়ে যাবেনা আজকে।
এমডি সাহেব গলা উঁচিয়ে বললেন, এ্যাই আমাকে চিনস, আমি সাহেদ, আর্মির সাবেক মেজর, হাত-পা ভেঙ্গে রাস্তায় ফেলে দেবো!
আমি বললাম, ভাঙ্গেন, সমস্যা নাই, টাকা না নিয়ে যাবোনা।

তখন তার লোকজনকে সে বললো, এ্যাই ওকে তোরা ওই রুমে বসিয়ে রাখ। টাকা যখন চাইছে, তখন টাকা দিয়েই ওরে বিদায় করমু
বিডিএস এর লোকজন আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে বসিয়ে রাখলো।
আমি বললাম, সমস্যা নাই টাকা না নিয়ে যাবোনা।
ঘণ্টা খানেক সময় পার হলো।
এরপর আবার আসলো সাহেদ।
১০ হাজার টাকা আমার মুখে ছুঁড়ে মেরে বললেন, এই নেন আপনার টাকা।
আমি বললাম, আপনার কাছে পাবো ৮০ হাজার, দিচ্ছেন ১০ হাজার। টাকাটা উল্টো তার মুখে ছুঁড়ে দিয়ে তড়িৎ গতিতে নিচে নেমে গেলাম। পেছন থেকে শুনতে পেলাম, সাহেদ বলছে, এই ধর মানিককে।

দু’দিন পরের ঘটনা।
পত্রিকা খুলে দেখি, সাহেদের ছবি। বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সাহেদের একপাশে বসে আছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ, অন্যপাশে সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতা লে.জে.(অবসরপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান।

ছবিটা দেখে চুপসে গেলাম।
ভাবলাম,সর্বনাশা আগুনে হাত দিয়েছি!


Translate »