বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
খালেদা জিয়া: রাজনীতি, আদর্শ ও উন্নয়নের এক দীর্ঘ অধ্যায়
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেসব নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের অন্যতম। তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নন, বরং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ক্ষমতার পালাবদল, নারী নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের প্রতীক। তাঁর রাজনীতি, আদর্শ ও উন্নয়নে অবদান নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসও অনিবার্যভাবে সামনে আসে।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ আগমন ঘটে ১৯৮১ সালে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন তুলনামূলকভাবে নিরালস ও ঘরোয়া। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলীয় শূন্যতা এবং নেতৃত্বের সংকট তাঁকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক পথচলা।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা
১৯৮০-এর দশকে এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আপসহীনভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। বহুবার গৃহবন্দি, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বাধার সম্মুখীন হয়েও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতনে তাঁর নেতৃত্ব ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
গণতন্ত্র ও সংসদীয় শাসনের প্রতি অঙ্গীকার
১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিষেক। এই সরকারের অন্যতম বড় অর্জন ছিল রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন। দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর করা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা—এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক ঐতিহাসিক অবদান।
আদর্শিক অবস্থান: বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল আদর্শ হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। এই আদর্শের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থা। তিনি বিশ্বাস করতেন—বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের সমন্বয়ে গঠিত।
এই আদর্শের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের পরিচয়কে একটি স্বতন্ত্র ও আত্মমর্যাদাশীল কাঠামোয় দাঁড় করাতে চেয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক ভাষণে বারবার উঠে এসেছে—দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার।
উন্নয়নে অবদান: অবকাঠামো ও অর্থনীতি
খালেদা জিয়ার শাসনামলে (১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করে।
১. খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে অগ্রগতি
তার সময়ে কৃষিতে ভর্তুকি, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও কৃষকবান্ধব নীতির ফলে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়।
২. যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাঁর সরকার কাজ করে। অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে শুরু করে এই সময়ে।
৩. বেসরকারি খাতের বিকাশ
তিনি বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতেন। শিল্পায়ন, ব্যাংকিং খাত ও টেলিযোগাযোগে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং নারীশিক্ষায় উৎসাহ প্রদান করা হয়। তাঁর সময়ে উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্কুলে থাকার সুযোগ পায়।
নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন
নারী হিসেবে রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে তাঁর অবস্থান নিজেই একটি অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন—নারীরাও রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম। তাঁর শাসনামলে নারীশিক্ষা, নারী উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ছিল উল্লেখযোগ্য।
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য ছিল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি। তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার পক্ষে ছিলেন। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয় এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়।
বেগম খালেদা জিয়া: অসুস্থতা, সংগ্রাম ও এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এমন এক নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্ষমতা ও বিরোধিতা, আন্দোলন ও আপসহীনতা, জনপ্রিয়তা ও বিতর্ক—সবকিছু। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি যে বিষয়টি ক্রমেই সামনে এসেছে, তা হলো দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও শারীরিক ভঙ্গুরতার মধ্যেও অব্যাহত থাকা এক কঠিন রাজনৈতিক সংগ্রাম। এই প্রেক্ষাপট খালেদা জিয়াকে কেবল একজন রাজনীতিক নয়, বরং এক মানবিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় প্রবেশ
খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসা ছিল আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যেখানে ব্যক্তিগত শোক আর জাতীয় সংকট একসূত্রে মিলিত হয়। রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ কোনো দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল ছিল না; বরং সময় ও পরিস্থিতিই তাঁকে নেতৃত্বের আসনে বসায়। এই আকস্মিক যাত্রাই পরবর্তীতে তাঁকে বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক চরিত্রে পরিণত করে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও আপসহীনতা
১৯৮০–এর দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন। বারবার গৃহবন্দি, রাজনৈতিক বাধা এবং শারীরিক-মানসিক চাপ সত্ত্বেও তিনি রাজপথের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। এই সময়ের রাজনৈতিক উত্তাপ ও অনিশ্চয়তা তাঁর স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল—যা তখন আলোচনায় না এলেও দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব অনুভূত হয়।
ক্ষমতা, বিরোধিতা ও নিরন্তর চাপ
দু’দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়া যেমন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন, তেমনি বহন করেছেন বিরোধিতা ও চাপের ভার। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যেমন সিদ্ধান্তের ভার ছিল, ক্ষমতার বাইরে থাকাকালীন তেমনি ছিল আন্দোলন, মামলা ও রাজনৈতিক সংঘাতের চাপ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চাপ একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে গভীর প্রভাব ফেলে, তা সহজেই অনুমেয়।
কারাবাস ও অসুস্থতার নতুন অধ্যায়
রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি আসে তাঁর কারাবাসের সময়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অসুস্থতা স্পষ্টভাবে সামনে আসে। নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার জানিয়েছেন। এই সময়ে রাজনীতি যেন আর কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানবিক অধিকার ও চিকিৎসা প্রাপ্তির প্রশ্নেও পরিণত হয়।
কারাবাসে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা আলোচনা হয়েছে। সমর্থকরা একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখেছেন, সমালোচকরা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে একটি বিষয় স্পষ্ট—একজন অসুস্থ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কঠোর শারীরিক ও মানসিক চাপে ছিলেন।
রাজনীতি বনাম মানবিকতা
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বাংলাদেশে রাজনীতি ও মানবিকতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও একজন প্রবীণ ও অসুস্থ নেতার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা প্রাধান্য পাবে—এই প্রশ্ন সমাজে আলোচনার জন্ম দেয়। রাজনীতি যেখানে প্রায়শই কঠোর ও নির্দয় হয়ে ওঠে, সেখানে অসুস্থতা রাজনীতিককেও একেবারে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়।
শারীরিক ভঙ্গুরতা ও মানসিক দৃঢ়তা
অসুস্থতা সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার মানসিক দৃঢ়তা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তাঁর নাম, অবস্থান ও নীরব উপস্থিতি এখনও দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। এটি প্রমাণ করে—রাজনৈতিক শক্তি কেবল শারীরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না; বরং তা বিশ্বাস, ইতিহাস ও প্রতীকের মধ্যেও বেঁচে থাকে।
এক নারীর সংগ্রাম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব সহজ ছিল না। সেই কঠিন বাস্তবতায় খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও সংগ্রাম আরও গভীর অর্থ বহন করে। তিনি একদিকে যেমন ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো নারীর প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি রাজনীতির নির্মম বাস্তবতায় ক্লান্ত এক মানুষের প্রতিচ্ছবি। এই দ্বৈত পরিচয় তাঁকে আরও মানবিক করে তোলে।
বর্তমান সময়ে মূল্যায়ন
আজ যখন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা সীমিত, তখন তাঁর অসুস্থতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—রাজনীতির বাইরে মানুষটির অস্তিত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের প্রবাহে ক্ষমতা আসে ও যায়, কিন্তু অসুস্থতা মানুষকে ক্ষমতার ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এক সাধারণ মানবিক অবস্থানে নিয়ে আসে। এই বাস্তবতা রাজনীতিকদের পাশাপাশি সমাজকেও আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয়।
সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত দৃঢ়তা
কারাবরণ, অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতার মধ্যেও খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁর জীবন রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার এক উদাহরণ—যেখানে ক্ষমতা যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে ত্যাগ, নিপীড়ন ও প্রতিকূলতা।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নাম। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী, সংসদীয় শাসনব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা এবং নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। উন্নয়ন, আদর্শ ও রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।
তাঁকে ভালোবাসা বা সমালোচনা—দুই দৃষ্টিভঙ্গিই থাকতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের নিরপেক্ষ বিচারে বলা যায়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন এবং তিনি এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
মৃত্যু: ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টা ২০২৫।
https://www.youtube.com/watch?v=KY9ZFJoF1_w&list=RDKY9ZFJoF1_w&start_radio=1
