আজকের ঝলক নিউজ

তোষামোদ পরিহার করুন

Spread the love

এনজিও ও সুশীল সমাজের পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান:

তোষামোদ পরিহার করুন

কদিন আগে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “বিএনপি ঘরানার সাংবাদিক হবেন না।” এটি একটি অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা—কোনো তোষামোদ নয়, বরং নিজের পেশাগত সত্তা এবং পবিত্রতা বজায় রাখুন। আপনি বা অন্য কেউ যদি সরকারকে সমর্থন করতে চান, তবে তার জন্য আপনাকে বিএনপি বা সরকারি দলের লোক হওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমি দেখছি অনেক সুশীল সমাজ বা এনজিও নেতারা ফেসবুকে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের সাথে ছবি পোস্ট করছেন। কেউ কেউ মন্ত্রী/উপদেষ্টা হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিচ্ছেন। আমি মনে করি, এই সংস্কৃতিই নেতাদের ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচারী করে তোলে এবং তাদের মধ্যে ‘আল্ট্রা-কনফিডেন্স’ বা অতি-আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। নেতারা তখন নিজেদের সাধারণের ঊর্ধ্বে মনে করতে শুরু করেন এবং ভাবেন তাদের অলৌকিক কোনো গুণ আছে; ফলে তারা সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
একজন নাগরিক এবং সুশীল সমাজের নেতা হিসেবে রাষ্ট্র ও সরকারকে সেবা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের সরকারি দলে যোগ দিতে হবে। সমাজে বিভিন্ন পেশাজীবীর বৈচিত্র্য প্রয়োজন; প্রতিটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর নিজস্ব ভূমিকা ও নীতিমালা রয়েছে যা সমাজের জন্য অপরিহার্য। সুশীল সমাজ এবং সাংবাদিকতা নিজস্ব আদর্শ ও মূল্যবোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পেশা। আমাদের অবশ্যই এই পার্থক্যগুলো বজায় রাখতে হবে এবং নিজের পেশার পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব।
আমরা রাজনীতিবিদ ও সরকার প্রধানদের প্রতিও আহ্বান জানাই—অনুগ্রহ করে আমাদের বা পেশাজীবীদের আপনাদের দলীয় লোক বানানোর চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করি, আপনারা যেন কোনো ধরনের তোষামোদকে প্রশ্রয় না দেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো আপনারাও স্পষ্ট বার্তা দিন যে, পেশাজীবীদের উচিত তাদের পেশাগত সততা ও পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখা।

একটি বাস্তব উদাহরণ দেই—নির্বাচনী প্রচারণার সময় আমি লক্ষ্য করেছি, তারেক রহমান খুব একটা কাউকে তার সাথে সেলফি তুলতে দেননি। আমি আমাদের সকল রাজনৈতিক ও সরকারি নেতাদের প্রতিও অনুরোধ জানাব, আপনারা যেন কাউকে ঢালাওভাবে সেলফি তুলতে না দেন। একইভাবে, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের নেতাদের প্রতিও আমার অনুরোধ থাকবে—এই সেলফি তোলা থেকে বিরত থাকুন। আসুন আমরা এই সেলফি সংস্কৃতির মাধ্যমে একে অপরকে বিরক্ত না করি। সরকারি দপ্তরগুলোতে এটি দাপ্তরিক নিয়ম হিসেবেও গণ্য হতে পারে।

রেজাউল করিম চৌধুরী , ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রিভিউ রেজাল্ট বহাল রাখা যৌক্তিক দাবি
https://www.youtube.com/watch?v=KY9ZFJoF1_w&list=RDKY9ZFJoF1_w&start_radio=1
Exit mobile version